প্রকৃত কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে- কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃত কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে- কৃষিমন্ত্রী
সার পাচার রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান; আমবাগানে আদা চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরিকল্পনা
সরকারের বরাদ্দ করা সার যেন কেবল প্রকৃত কৃষকেরাই ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো অসাধু চক্র যেন সার অপচয় বা দেশের বাইরে পাচার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা খাড়ি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী সরমংলা খাড়িতে একটি রক্তচন্দন গাছের চারা রোপণ করেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সারের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে এসব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশে ইউরিয়া সারের কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বছরে দেশে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে এবং এর সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে সরকার যেসব সারে বেশি ভর্তুকি দিয়ে থাকে, সেগুলোর মধ্যে দু-এক ধরনের সারের চাহিদা কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
সার বিতরণব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল করতে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি মাস থেকেই নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সরাসরি সার বিতরণ শুরু হবে। নতুন ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি সারের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী রোপণ মৌসুমে সারের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কৃষির প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা রয়েছে। একসময় এ অঞ্চল শুধু আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত থাকলেও বরেন্দ্র সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পর ধান ও সবজি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এ অঞ্চলে আদা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের আমবাগানগুলোর গাছের সারির মাঝের ফাঁকা জায়গায় সাধারণত কলাই চাষ করা হয়। এসব জায়গায় আদা চাষ করা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাটির ধরন ও চাষপদ্ধতি বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি জমিতে অথবা বস্তায় আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বছরে প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে আদার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানো জরুরি। আমবাগানের অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ করা গেলে কৃষকেরা অতিরিক্ত একটি ফসল পাবেন। পাশাপাশি দেশে উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতাও কমবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল, বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, রাজশাহীর উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ এবং বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১-এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিব সরকারসহ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।





















