ভুল চিকিৎসায় জীবন সংকটে তিন কিডনি নিয়ে জন্ম নেওয়া যুবক, বাঁচতে চান মানবিক সহায়তা
- আপডেট সময় : ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৬১ বার পড়া হয়েছে

ভুল চিকিৎসায় জীবন সংকটে তিন কিডনি নিয়ে জন্ম নেওয়া যুবক, বাঁচতে চান মানবিক সহায়তা
নাটোরের বাগাতিপাড়ার মোস্তফা বিরল কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত; চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত পরিবার, বিদেশে চিকিৎসার আশায় সহযোগিতা কামনা
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাইলকোনা গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান মোস্তফা (প্রায় ৩০) বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বিরল শারীরিক গঠনের কারণে জন্মগতভাবে তার শরীরে ছিল তিনটি কিডনি—একটি স্বাভাবিক এবং দুটি ছোট আকারের যমজ কিডনি। প্রতিটি কিডনি থেকে মূত্রথলিতে আলাদা ইউরেটর সংযুক্ত ছিল। এই জটিলতা এবং পরবর্তী ভুল চিকিৎসাই আজ তার জীবন বিপন্ন করেছে বলে দাবি পরিবার ও স্বজনদের।
মোস্তফা বর্তমানে প্রস্রাবে তীব্র জ্বালা, পুঁজ নিঃসরণ ও অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছেন। তার শরীরে ভয়াবহ ‘সুডোমোনাস’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং একাধিক ওষুধে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের সাইলকোনা গ্রামের ছায়দুর রহমান ও রাবেয়া বেগম দম্পতির ছেলে মোস্তফা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী। ক্রিকেট ও ফুটবলে পারদর্শী এই যুবক জেলার বিভিন্ন লীগে অংশ নিলেও দারিদ্র্যের কারণে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাননি। তিনি ২০১৭ সালে সাইকোনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে বাগাতিপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তার সাত বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
জীবিকার তাগিদে ২০২৫ সালে ঢাকায় গিয়ে হামিম গ্রুপে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মোস্তফা। প্রথমে জয়দেবপুর পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হলে কিডনি জটিলতা ধরা পড়ে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় জানা যায়, তার শরীরে তিনটি কিডনি রয়েছে। সিরিয়াল জটিলতায় কাকরাইলের ইসলামী সেন্ট্রাল হাসপাতালে যমজ কিডনির একটি অপারেশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের সময় একটি কিডনির অংশ শরীরে রেখে দেওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
পরবর্তীতে পিজি হাসপাতালে আরও দুটি অপারেশনসহ এ পর্যন্ত চিকিৎসায় প্রায় ১২–১৩ লাখ টাকা ব্যয় হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে তার চিকিৎসার আর সুযোগ নেই। বিদেশে উন্নত চিকিৎসাই তার একমাত্র ভরসা।
মোস্তফা জানান, দিনে মাত্র ২–৩ ঘণ্টা কিছুটা স্বস্তি পান, বাকি সময় তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে হয়। যন্ত্রণার মাত্রা এতটাই বেশি যে, অনেক সময় আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন।
তার মা রাবেয়া বেগম বলেন, “জমি-গবাদিপশু সব বিক্রি করেছি। এখন আর কিছু নেই। আপনারা সাহায্য না করলে আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারব না।”
স্ত্রী বলেন, “আমাদের ছোট একটা ছেলে আছে। স্বামীকে হারালে আমরা একেবারে অসহায় হয়ে পড়ব।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএসএম লেলিন বলেন, “মোস্তফা ভুল চিকিৎসার শিকার। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক জানান, রিপোর্টে তিনটি কিডনির উপস্থিতি দেখা গেলেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিস্টই সঠিক মন্তব্য করতে পারবেন।
বর্তমানে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন মোস্তফা।




















