রাবির ট্যুরিজম বিভাগের দুই শিক্ষককে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি
- আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২১৮ বার পড়া হয়েছে

রাবির ট্যুরিজম বিভাগের দুই শিক্ষককে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি
শিক্ষার্থী অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির সুপারিশে সাজু সরদার ও তানজিল ভূঁঞার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দুই শিক্ষককে বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২৩ নভেম্বর) জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া দুই শিক্ষক হলেন— সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার ও সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁঞা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রথম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁঞা বলেন, বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ৬–৯ নভেম্বর ওয়ার্ল্ড ফ্রিডম ডে উপলক্ষে আয়োজিত মেলাকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ চরমে পৌঁছায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মেলায় আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বরং সব দায়িত্ব সাজু সরদারকে দেওয়া হয়। মেলা নিয়ে এক মিটিংয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। আমি তাকে নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের কথা বললে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন এবং পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে আমাকে অপমান করার চেষ্টা করেন।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রথমে সাজু সরদারের বিরুদ্ধে হলেও পরে তা তার দিকেও মোড় নেয়।
“সব প্রমাণ দেখানোর পরও প্রশাসন বলেছে, আমাদের দুজনের কোন্দলের কারণেই বিভাগে সমস্যা তৈরি হয়েছে,”—যোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার বলেন, “প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতেই সব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, “বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রথম সভায় দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। সেই অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে গত ১৯ নভেম্বর সিন্ডিকেট সদস্য ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়।
১০ ও ১১ নভেম্বর বিভাগের শিক্ষার্থীরা সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁঞাকে চরিত্রহীন, লম্পট ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তার বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
















