চাকুরীতে যোগদানের ৭ বছর পর বিএড ডিগ্রি অর্জন এবং বহিস্কৃত হয়েও হয়েছেন প্রধান শিক্ষক!
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ২৮৫ বার পড়া হয়েছে

চাকুরীতে যোগদানের ৭ বছর পর বিএড ডিগ্রি অর্জন এবং বহিস্কৃত হয়েও হয়েছেন প্রধান শিক্ষক!
নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের গুরুদাসপুরের হাঁসমারি মফিজ উদ্দিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও তিনি অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। খোদ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পরও শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে দায়িত্ব বুঝে না দেয়া সহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন জৈষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক মোঃ রবিউল করিম।
এসব অভিযোগ পত্র সুত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডু হাঁসমারি মফিজ উদ্দিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকরীতে যোগদানের প্রায় ৭ বছর পরে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক যোগদান করেন। এরপর ২০১১ সালে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডু ২০১০ এর নভেম্বর মাসে ৯(নয়) কোডে প্রথম এমপিও ভুক্ত হন। একারণে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডুকে কারন দশানোর নেটিশ করেন। কিন্তু একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডু জবাব না দেয়ায় চলতি বছরের ২ ফেব্রয়ারী পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের কারন উল্লেখ করা সহ চাকুরীর শর্তানুযায়ী নিয়োগকালীন সময়ে কাম্য যোগ্যতা না থাকায় এবং ২০১০ এর নভেম্বর ২০২৪ এর মার্চ পর্যন্ত বিধিবর্হিভুতভাবে সরকারী অর্থ উত্তোলন করে আইনগত দন্ডনীয় অপরাধের অভিযোগ এনে সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম অবসর গ্রহণ করলে পরিচালনা পরিষদ স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক রবিউল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু বহিস্কৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুন্ডু প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে বিদ্যালয়ের পরিপন্থি কাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বহিস্কৃত শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডু গুরুদাসপুর পৌর সভার মেয়ার শাহনাজ আলীর পরোক্ষ মদদপুষ্ট হয়ে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে রেখেছেন। বহিস্কৃত শিক্ষক সুব্রতর এই অবৈধ কর্মকান্ডের বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেন। পরবর্তীতে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের সকল শাখায় রেজুলেশন সহ অভিযোগ পত্র প্রেরন করা হয়েছে। বহিস্কৃত শিক্ষকের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় বেতন ভাতা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে করে শিক্ষক কর্মচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (বহিস্কৃত) সুব্রত কুমার কুন্ডু বলেন, তিনি কোন অনিয়ম বার অবৈধ কাজ করেননি। তাকে বিধি বর্হিভুতভাবে বহিস্কার করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম তার ভুল বুঝতে পেরে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। একই সাথে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিধি অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
গুরুদাসপুর পৌর মেয়র শাহনাজ আলী বলেন, শিক্ষক সুব্রত কুমার কুন্ডুকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া হচ্ছে। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম একজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। আইনকে তোয়াক্কা না করে বিধিবর্হিভুতভাবে তার একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে অর্থ আত্মসাতের পায়তারা করছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সেলিম আকতার বলেন, সুবুত কুন্ডুকে সাময়িক বহিস্কার আদেশ বিধি সম্মত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সর্বশেষ বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের শুন্য পদ পুরন না হওয়া পর্যন্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুন্ডু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে তিনি এক ধাপ নিচে বেতন ভাতা পাবেন। যা সুব্রত কুন্ডুর রয়েছে। তিনি ৮ম ধাপে বেতন পাচ্ছেন। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে বেতন বিলে স্বাক্ষর দিতে বলেছেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাদুজ্জামান বলেন, এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















