ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহনপুরে কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, কাজের কিছুদিনেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার ইট লালপুরে ৩০ পুরিয়া হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মোহনপুরে সড়ক পারাপারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ নিহত মোহনপুরে সাড়ে তিন বছরের শি’শুকে ধ র্ষ ণে র চেষ্টার অভিযোগ এইচএসসি ফরম ফিলাপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী গ্রেপ্তার রায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসী সড়কে গাছের মরা ডাল, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় এলাকাবাসী রাজশাহীতে বোমা সন্দেহে আতঙ্ক, পরে মিলল মোটরসাইকেলের মিউজিক ডিভাইস পদ্মা রক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেলেন প্রবেশপত্রবঞ্চিত ১৮ পরীক্ষার্থী লালপুর থানার তিন দিনের প্রচেষ্টায় পরিবারের কাছে ফিরল পথভোলা কিশোরী

বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে পরীক্ষার্থী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে পরীক্ষার্থী!

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে পরীক্ষার্থী! নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বাবা-ছেলে চলতি এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন একসাথে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কেন্দ্রে চলতি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তারা। বাবা ইমামুল ইসলাম এবং ছেলে আবু রায়হানের বাড়ি উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চকতকিনগর গ্রামে।

জানা গেছে, লেখাপড়া করার একান্ত ইচ্ছা থাকার পরেও সংসারের অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পরে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি ইমামুলের। ২৪ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পড়ি জমান তিনি। সেখানে গার্মেন্টসে কাজ করেন প্রায় ১৮ বছর। পরে কাজ ছেড়ে ২০১৬ সালে বাড়িতে চলে আসেন। এসে আম বাগানের ব্যবসা ও বাড়ির পাশে একটি ছোট্ট মুদিখানা দোকান করেন তিনি। কিন্তু বুকে চাপা থাকা লেখা পড়ার সেই ইচ্ছা তাঁকে মাঝে মধ্যেই পীড়া দেয়। চক্ষু লজ্জায় সেটি হয়ে উঠেনা। পরে সেই ইচ্ছে পূরণে অবশেষে ২০২০ সালে ছেলের সাথে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভোকেশনাল শাখার নবম শ্রেণীতে ড্রেস মেকিং ট্রেডে ভর্তি হন তিনি। আর ছেলে রায়হান ভর্তি হয় ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডে।

বাবা ইমামুল ইসলাম বলেন, অভাবের সংসারে পড়ার কথা ভাবারই সময় হয়নি। অবশেষে ছেলের সাথে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করেছেন। সমাজে আর দশটা মানুষের মতো যেন নিজেকেও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে পরিচয় দিতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এই বয়সে আবার লেখাপড়া শুরু করেছেন।
বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব সামসুন্নাহার এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার আসলে কোন বয়স নেই। তিনি এই বয়সে সেটা বুঝতে পেরে লেখা পড়া শুরু করেছেন সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আর আমি বাবা-ছেলে দু-জনেরই সাফল্য কামনা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে পরীক্ষার্থী!

আপডেট সময় : ১০:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে পরীক্ষার্থী!

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বাবা-ছেলে পরীক্ষার্থী! নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বাবা-ছেলে চলতি এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন একসাথে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কেন্দ্রে চলতি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তারা। বাবা ইমামুল ইসলাম এবং ছেলে আবু রায়হানের বাড়ি উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চকতকিনগর গ্রামে।

জানা গেছে, লেখাপড়া করার একান্ত ইচ্ছা থাকার পরেও সংসারের অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পরে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি ইমামুলের। ২৪ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পড়ি জমান তিনি। সেখানে গার্মেন্টসে কাজ করেন প্রায় ১৮ বছর। পরে কাজ ছেড়ে ২০১৬ সালে বাড়িতে চলে আসেন। এসে আম বাগানের ব্যবসা ও বাড়ির পাশে একটি ছোট্ট মুদিখানা দোকান করেন তিনি। কিন্তু বুকে চাপা থাকা লেখা পড়ার সেই ইচ্ছা তাঁকে মাঝে মধ্যেই পীড়া দেয়। চক্ষু লজ্জায় সেটি হয়ে উঠেনা। পরে সেই ইচ্ছে পূরণে অবশেষে ২০২০ সালে ছেলের সাথে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভোকেশনাল শাখার নবম শ্রেণীতে ড্রেস মেকিং ট্রেডে ভর্তি হন তিনি। আর ছেলে রায়হান ভর্তি হয় ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডে।

বাবা ইমামুল ইসলাম বলেন, অভাবের সংসারে পড়ার কথা ভাবারই সময় হয়নি। অবশেষে ছেলের সাথে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করেছেন। সমাজে আর দশটা মানুষের মতো যেন নিজেকেও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে পরিচয় দিতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই এই বয়সে আবার লেখাপড়া শুরু করেছেন।
বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব সামসুন্নাহার এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার আসলে কোন বয়স নেই। তিনি এই বয়সে সেটা বুঝতে পেরে লেখা পড়া শুরু করেছেন সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আর আমি বাবা-ছেলে দু-জনেরই সাফল্য কামনা করি।