নদীভাঙন রোধ ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:১৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

নদীভাঙন রোধ ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রতিমন্ত্রী
মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নদীভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগ নিরসন এবং আন্তর্জাতিক পানি আইনের আওতায় অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলবাজার কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া এবং চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর বয়ারমারীসহ বিভিন্ন নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী গোদাগাড়ী শহরের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ আই-বাঁধ, টি-বাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। নদীভাঙন রোধ এবং এলাকার নদী সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
গোদাগাড়ী সীমান্তে পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকট এবং ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ফারাক্কা চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজের আলোকে ভারত নতুন করে চুক্তি নবায়ন করবে। ভারতের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে ঘিরে বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গোদাগাড়ী ও পবা অঞ্চলের নদী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান।
এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শাওয়াল, গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া রুলু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নদীভাঙন রোধ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গোদাগাড়ী ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



















