ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় ফলিত পুষ্টি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বেকারিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পুঠিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র‍্যালি ও মহড়া ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাম-স্বাক্ষর জাল করার দাবি কৃষকদের বাউয়েটে ৬ষ্ঠ কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে ৫০ বোতল ইস্কাফ সিরাপসহ আটক ২, ভ্যান ও মোবাইল জব্দ রাণীনগরে ৫০টি পূজামন্দিরে সরকারি চাল ও গাছ বিতরণ গোদাগাড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পঞ্চগড়ে ১২০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, ডিলারকে জরিমানা রাণীনগরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাম-স্বাক্ষর জাল করার দাবি কৃষকদের

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Allegations against agriculture officials in Jhinaigati

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাম-স্বাক্ষর জাল করার দাবি কৃষকদের

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় অভিযোগপত্রে নাম ব্যবহার করা ছয় কৃষক তা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তাঁদের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা ওই অভিযোগ দিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহল কুদ্দুছকে জড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মকুল মিয়া, আব্দুল হালিম, সবুজ মিয়া, জৈয়মত আলী ও শাহাজাহান। তারা ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তবে মূল অভিযোগে ছয় কৃষকের নাম ব্যবহারের কথা বলা হলেও সরবরাহ করা তথ্যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কৃষি কর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা কোনো দুর্নীতির অভিযোগ করেননি। তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কারা অভিযোগটি দায়ের করেছে, তা তাঁরা জানেন না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগপত্রে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তার দাবি, কর্মকর্তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে একটি বেনামি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। যাদের নাম অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহল কুদ্দুছ বলেন, তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে জড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি। যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাকে ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, তাকে জড়িয়ে দেওয়া অভিযোগটি মিথ্যা ও কাল্পনিক। তার দাবি, অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তাঁরা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেননি।

তবে অভিযোগটি কে বা কারা দায়ের করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তদন্তের ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও এর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাম-স্বাক্ষর জাল করার দাবি কৃষকদের

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাম-স্বাক্ষর জাল করার দাবি কৃষকদের

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় অভিযোগপত্রে নাম ব্যবহার করা ছয় কৃষক তা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তাঁদের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা ওই অভিযোগ দিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহল কুদ্দুছকে জড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মকুল মিয়া, আব্দুল হালিম, সবুজ মিয়া, জৈয়মত আলী ও শাহাজাহান। তারা ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তবে মূল অভিযোগে ছয় কৃষকের নাম ব্যবহারের কথা বলা হলেও সরবরাহ করা তথ্যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কৃষি কর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তারা কোনো দুর্নীতির অভিযোগ করেননি। তাদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কারা অভিযোগটি দায়ের করেছে, তা তাঁরা জানেন না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগপত্রে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তার দাবি, কর্মকর্তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে একটি বেনামি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। যাদের নাম অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোহল কুদ্দুছ বলেন, তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে জড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি। যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাকে ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, তাকে জড়িয়ে দেওয়া অভিযোগটি মিথ্যা ও কাল্পনিক। তার দাবি, অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তাঁরা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেননি।

তবে অভিযোগটি কে বা কারা দায়ের করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তদন্তের ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও এর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।