পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে বাগাতিপাড়ায়
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে
বাগাতিপাড়ায়
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে বাগাতিপাড়ায়। শুষ্ক মৌসুম ও অনাবৃষ্টির কারণে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশির ভাগ নলকূপ ও সেচযন্ত্রে পানি উঠছে না। এতে করে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে এই উপজেলার মানুষের মধ্যে। পানির অভাবে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন অধিকাংশ মানুষ।
এই উপজেলার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ নলকূপ এবং শ্যালো মেশিনে পানি উঠছে না। ফলে ফসলের জমিতে সেচ, বাসতবাড়িতে গোসল, রান্নাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে দয়ারামপুর ও ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলায় প্রায় ২০ হাজারের অধিক সাধারণ নলকূপের পানি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু ডিপ সিলিন্ডার ও তারা পাম্প গুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিগরী, বিলগোপালহাটি, দয়ারামপুর, ক্ষিদ্রমালঞ্চি, বাটিকামারী, স্বরুপপুর, কালিকাপুর, কামারপাড়া এবং সাইলকোনাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় বসত বাড়িতেই পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। জলমটর (সাবমার্সিবুল পাম্প) ব্যতিত হাতে গোনা দু-একটি নলকূপে পানি থাকলেও হাতল চেপে পানি তুলতে অনেক কষ্ট ও সময় লাগছে। এছাড়াও এই এলাকাটি কৃষি প্রধান হওয়ায় প্রচন্ড তাপদাহে মাঠের ফসল গুলোতে পানি সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু দুই একটি ব্যতিত কোন সেচ যন্ত্রে পানি উঠছে না। যেগুলোতে পানি উঠছে সেগুলোতেও অনেক সময় ও খরচ বেশি লাগছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খাল-বিল, পুকুর, এমনকি বড়াল ও মূসা খাঁ নদ দুটিও শুকিয়ে যাওয়ায় রমজানের শুরু থেকেই পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে পানিসংকট মোকাবেলায় অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ২০ থেকে ২৮ হাজার টাকা টাকা ব্যয়ে জলমটর (সাবমার্সিবুল পাম্প) স্থাপন করে পানি তুলছেন। যা গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অসম্ভব।
আবার, আম-লিচুর কড়ি ঝরাসহ মাঠের ফসল গুলো নেতিয়ে পড়ছে এবং বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে পানির অভাবে।
ক্ষিদ্রমালঞ্চি গ্রামের সাজেদুর বলেন, তাদের এলাকায় প্রায় ২০০ নলকূপের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৭ টি নলকূপে পানি উঠছে। তাও হাতল চেপে পানি তুলতে অনেক কষ্ট ও সময় লাগছে।
নিজের টিউবওয়েলে পানি না উঠায় একটু দূরে গিয়ে অন্যের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আসছেন স্বরুপপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার এলাকাতে প্রায় ৮০ টি নলকূপের মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪ টিতে কোন রকম পানি উঠছে।
বিলগোপালহাটি গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, জমিতে সেচ দেওয়ার মতো এলাকায় প্রায় ২০ টি বোরিং রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ২ টিতে কোন রকম পানি উঠছে। তাও সময় অনেক বেশি লাগছে। আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে দুই ঘন্টা সময় ও ৫০০ টাকা লাগতো, এখন সেই পরিমাণ জমিতে প্রায় ৫ ঘন্টার বেশি সময় ও এক হাজার টাকা লাগছে। এর ফেলে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
চলতি মৌসুমে সোনার বিলে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন দেবনগর এলাকার ইরি ধান চাষি ওয়াসিম। ধানগুলোতে এখন দানা হচ্ছে। এমন সময় তীব্র পানি সংকট দেখা দেওয়ায় গর্ত খুঁড়ে শ্যালো মেশিন নিচে বসিয়েও পানি পাচ্ছেন না। এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না ওই কৃষক।
উপজেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে গিয়েছে। ফলে উপজেলা জুড়েই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন উপজেলার বরাদ্দকৃত ডিপ সিলিন্ডার টিউবওয়েল গুলো বেশি সংকট পূর্ণ স্থান গুলোতে ১০ থেকে ১২ টি বাড়ি প্রতি একটি করে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কিছুটা সংকট লাঘব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেন, লালপুর-বাগাতিপাড়া এমনিতেই খরা প্রবণ এলাকা। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে অনাবৃষ্টির কারণে পানির লেয়ার নিচে নেমে গেছে। সেজন্য পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি হলেই সমস্যা থাকবেনা।




















