ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মান্দায় অবৈধ মাটি উত্তোলনে ১ লাখ টাকা জরিমানা, মাদক সেবনে ৬ মাসের কারাদণ্ড আদিতমারীতে বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আহত একাধিক মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ মাদারগঞ্জে ৫০০ টাকা বাজিতে জী’বন্ত পাখি ছিঁ/ড়ে খাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ইউএনওর ভবন নির্মাণে আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি গণপূর্তমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক বাউয়েটে বিসিএস ও সেনাবাহিনীতে ক্যারিয়ার গঠনবিষয়ক সেমিনার বগুড়ায় বিশ্ব মান দিবস পালিত, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার আহ্বান

তিন বছরেও চালু হয়নি রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, চুরি হচ্ছে সরঞ্জাম

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিন বছরেও চালু হয়নি রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, চুরি হচ্ছে সরঞ্জাম

২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল অচল, রামেকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশু রোগী

রাজশাহীতে প্রায় তিন বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি ২০০ শয্যার সরকারি শিশু হাসপাতাল। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ভবনটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, এরই মধ্যে চুরি হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম।

রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর কড়াইতলা টিবিপুকুর এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে ৫২ শয্যার নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)সহ মোট ২০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তা বুঝে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভবন হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানই নিজ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পাহারা দিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও জানালার অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, কাচসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ফরহাদ সরকার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পাহারা দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত। পাহারাদাররা বাধা দিলে চোরেরা কাচ ভেঙে দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ভবনটি বুঝে না নিলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হবে।”

এদিকে বিপরীত চিত্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। সেখানে শিশু রোগীর চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় এক হাজার শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। একাধিক রোগীকে একই বেডে রাখা হচ্ছে, অনেককে করিডোরে শয্যা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আইসিইউ সংকটের কারণে গত মার্চ মাসেই রামেকে ২২৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯১ জনই শিশু। অনেক ক্ষেত্রে আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থেকেই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং মূল কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত কাজসহ সব কার্যক্রম ২০২৩ সালের জুনের আগেই সম্পন্ন হয়। তবে দেড় বছর পার হলেও এখনো হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কাউসার সরকার বলেন, “সমস্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাদের পক্ষ থেকে কে ভবনটি বুঝে নেবে, সেটি এখনো নির্ধারিত হয়নি।”

অন্যদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম রাজিউল করিম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতাল চালুর দায়িত্ব দেওয়া হলেও রামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এটি তাদের আওতাধীন নয়। ফলে প্রশাসনিক জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

সচেতন মহলের মতে, একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হাসপাতাল বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে হাসপাতালটি চালু না হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরও শিশুর প্রাণহানি ঘটতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিন বছরেও চালু হয়নি রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, চুরি হচ্ছে সরঞ্জাম

আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

তিন বছরেও চালু হয়নি রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, চুরি হচ্ছে সরঞ্জাম

২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল অচল, রামেকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশু রোগী

রাজশাহীতে প্রায় তিন বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি ২০০ শয্যার সরকারি শিশু হাসপাতাল। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ভবনটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, এরই মধ্যে চুরি হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম।

রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর কড়াইতলা টিবিপুকুর এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে ৫২ শয্যার নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)সহ মোট ২০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তা বুঝে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভবন হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানই নিজ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পাহারা দিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও জানালার অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, কাচসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ফরহাদ সরকার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে পাহারা দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত। পাহারাদাররা বাধা দিলে চোরেরা কাচ ভেঙে দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ভবনটি বুঝে না নিলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হবে।”

এদিকে বিপরীত চিত্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। সেখানে শিশু রোগীর চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় এক হাজার শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। একাধিক রোগীকে একই বেডে রাখা হচ্ছে, অনেককে করিডোরে শয্যা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আইসিইউ সংকটের কারণে গত মার্চ মাসেই রামেকে ২২৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯১ জনই শিশু। অনেক ক্ষেত্রে আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থেকেই এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং মূল কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত কাজসহ সব কার্যক্রম ২০২৩ সালের জুনের আগেই সম্পন্ন হয়। তবে দেড় বছর পার হলেও এখনো হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কাউসার সরকার বলেন, “সমস্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাদের পক্ষ থেকে কে ভবনটি বুঝে নেবে, সেটি এখনো নির্ধারিত হয়নি।”

অন্যদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম রাজিউল করিম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতাল চালুর দায়িত্ব দেওয়া হলেও রামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এটি তাদের আওতাধীন নয়। ফলে প্রশাসনিক জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

সচেতন মহলের মতে, একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হাসপাতাল বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে হাসপাতালটি চালু না হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরও শিশুর প্রাণহানি ঘটতে পারে।