ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মান্দায় অবৈধ মাটি উত্তোলনে ১ লাখ টাকা জরিমানা, মাদক সেবনে ৬ মাসের কারাদণ্ড আদিতমারীতে বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আহত একাধিক মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ মাদারগঞ্জে ৫০০ টাকা বাজিতে জী’বন্ত পাখি ছিঁ/ড়ে খাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ইউএনওর ভবন নির্মাণে আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি গণপূর্তমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক বাউয়েটে বিসিএস ও সেনাবাহিনীতে ক্যারিয়ার গঠনবিষয়ক সেমিনার বগুড়ায় বিশ্ব মান দিবস পালিত, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার আহ্বান

“পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ৬ মাস পর আমিও”—রাজশাহীতে শিক্ষামন্ত্রী

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৩২৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ৬ মাস পর আমিও”—রাজশাহীতে শিক্ষামন্ত্রী

পলিটেকনিকে ক্লাস-ল্যাব সংকট, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে সরব মন্ত্রী

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে নিয়মিত ক্লাস হয় না, হাতে-কলমে শেখার পর্যাপ্ত উপকরণ নেই, ল্যাবের যন্ত্রপাতি পুরোনো এবং দক্ষ শিক্ষকের অভাব—এমন নানা অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এসব অভিযোগ শুনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয় মাস পর আমিও ফেল। কারো বাঁচার উপায় নেই।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রচলিত বক্তব্যের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকট সরাসরি শোনেন মন্ত্রী।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, “আমাদের ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। প্র‍্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায়। ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না।”

শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমানকে ডেকে কারণ জানতে চান মন্ত্রী। তিনি জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারছেন না।

আরেক শিক্ষার্থী আবু জার গিফারি অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে পাঠানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নেওয়া হয় না। ঢাকার নামকরা প্রতিষ্ঠানেও সুযোগ দেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চুক্তি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এছাড়া সাত বছর ধরে চাকরি করেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ৬ মাস পর আমিও”—রাজশাহীতে শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

“পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ৬ মাস পর আমিও”—রাজশাহীতে শিক্ষামন্ত্রী

পলিটেকনিকে ক্লাস-ল্যাব সংকট, শিক্ষার্থীদের অভিযোগে সরব মন্ত্রী

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে নিয়মিত ক্লাস হয় না, হাতে-কলমে শেখার পর্যাপ্ত উপকরণ নেই, ল্যাবের যন্ত্রপাতি পুরোনো এবং দক্ষ শিক্ষকের অভাব—এমন নানা অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এসব অভিযোগ শুনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয় মাস পর আমিও ফেল। কারো বাঁচার উপায় নেই।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রচলিত বক্তব্যের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সংকট সরাসরি শোনেন মন্ত্রী।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, “আমাদের ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। প্র‍্যাকটিক্যাল কাজ আটকে যায়। ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না।”

শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক মাশফিকুর রহমানকে ডেকে কারণ জানতে চান মন্ত্রী। তিনি জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে ক্লাস ও ল্যাব পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারছেন না।

আরেক শিক্ষার্থী আবু জার গিফারি অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে পাঠানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নেওয়া হয় না। ঢাকার নামকরা প্রতিষ্ঠানেও সুযোগ দেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চুক্তি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার কাজ করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এছাড়া সাত বছর ধরে চাকরি করেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।