ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ, ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালাল হামলাকারীরা মান্দায় অবৈধ মাটি উত্তোলনে ১ লাখ টাকা জরিমানা, মাদক সেবনে ৬ মাসের কারাদণ্ড আদিতমারীতে বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আহত একাধিক মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ মাদারগঞ্জে ৫০০ টাকা বাজিতে জী’বন্ত পাখি ছিঁ/ড়ে খাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ইউএনওর ভবন নির্মাণে আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি গণপূর্তমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক বাউয়েটে বিসিএস ও সেনাবাহিনীতে ক্যারিয়ার গঠনবিষয়ক সেমিনার

২৩ বছর কারাভোগ করা মাজেতকে গরু দিলেন জেলা প্রশাসন

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫ ৪৩৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২৩ বছর কারাভোগ করা মাজেতকে গরু দিলেন জেলা প্রশাসন

মাজেতের সাজা হয়েছিল ৩০ বছর। কিন্তু ভালো ব্যবহার ও ভালো কাজের জন্য ২৩ বছরেই মুক্তি মিলে তার। গত ২৬ মার্চ দীর্ঘ কারাভোগ শেষে বের হন তিনি। তবে এই দীর্ঘ সময়ে বদলে গেছে অনেক কিছু। তার সংসারে এখন কেউ নেই। আছে কেবল অভাব অনটন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের মাধইপাড়া এলাকায় বাড়ি মাজেতের। তিনি ওই এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় তার সাজা হয়েছিল ২০০২ সালে। দুই বছর পর স্ত্রী সালেহা বেগম তার সংসার ছেড়ে অন্যত্র সংসার পাতেন। বাড়িতে নেই কোন জমি জায়গা। সংসারে ছিলো মা ফুলবানু বেগম। তিনিও ১৬ দিন আগে মারা গেছেন। খুব একা হয়ে পড়েন মাজেত। চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করে কোন মতে জীবন যাপন করছিলেন তিনি। তবে অভাব অনটে আবারো দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। মাজেতের অসহায়ত্বের কথা শুনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাকে সাবলম্বী করতে একটি গরু কিনে দেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তার হাতে গরুটি তুলে দেন তিনি। গরু পেয়ে খুশি মাজেত।

আব্দুল মাজেত বলেন, আমি মিথ্যে মামলায় ২৩ বছর কারাগারে কাটিয়েছি। এ বছর আমাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এখন আমার পরিবারে কেউ নেই। মা ছিলো কয়েকদিন আগে তিনিও মারা গেছেন। আমি এখন চা বাগানে কাজ করি। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে একটি গরু কিনে দিয়েছেন। আমি খুব খুশি। আমার খুব উপকার হলো।

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছে। ভালো আচরণ ও ভালো কাজের জন্য তাকে এবার মুক্তি দেয়া হয়েছে। সম্পদ বলতে তার কিছুই নেই। তাকে সাবলম্বী করতেই আমরা একটি গরু কিনে দিয়েছি। আশা করি সে এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২৩ বছর কারাভোগ করা মাজেতকে গরু দিলেন জেলা প্রশাসন

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

২৩ বছর কারাভোগ করা মাজেতকে গরু দিলেন জেলা প্রশাসন

মাজেতের সাজা হয়েছিল ৩০ বছর। কিন্তু ভালো ব্যবহার ও ভালো কাজের জন্য ২৩ বছরেই মুক্তি মিলে তার। গত ২৬ মার্চ দীর্ঘ কারাভোগ শেষে বের হন তিনি। তবে এই দীর্ঘ সময়ে বদলে গেছে অনেক কিছু। তার সংসারে এখন কেউ নেই। আছে কেবল অভাব অনটন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের মাধইপাড়া এলাকায় বাড়ি মাজেতের। তিনি ওই এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় তার সাজা হয়েছিল ২০০২ সালে। দুই বছর পর স্ত্রী সালেহা বেগম তার সংসার ছেড়ে অন্যত্র সংসার পাতেন। বাড়িতে নেই কোন জমি জায়গা। সংসারে ছিলো মা ফুলবানু বেগম। তিনিও ১৬ দিন আগে মারা গেছেন। খুব একা হয়ে পড়েন মাজেত। চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করে কোন মতে জীবন যাপন করছিলেন তিনি। তবে অভাব অনটে আবারো দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। মাজেতের অসহায়ত্বের কথা শুনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাকে সাবলম্বী করতে একটি গরু কিনে দেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তার হাতে গরুটি তুলে দেন তিনি। গরু পেয়ে খুশি মাজেত।

আব্দুল মাজেত বলেন, আমি মিথ্যে মামলায় ২৩ বছর কারাগারে কাটিয়েছি। এ বছর আমাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এখন আমার পরিবারে কেউ নেই। মা ছিলো কয়েকদিন আগে তিনিও মারা গেছেন। আমি এখন চা বাগানে কাজ করি। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে একটি গরু কিনে দিয়েছেন। আমি খুব খুশি। আমার খুব উপকার হলো।

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছে। ভালো আচরণ ও ভালো কাজের জন্য তাকে এবার মুক্তি দেয়া হয়েছে। সম্পদ বলতে তার কিছুই নেই। তাকে সাবলম্বী করতেই আমরা একটি গরু কিনে দিয়েছি। আশা করি সে এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারবে।