রাজশাহীতে দেড় হাজার বিঘা জমির বোরো ধান বিলকুমারি বিলের পানির নিচে
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ২৪০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে দেড় হাজার বিঘা জমির বোরো ধান বিলকুমারি বিলের পানির নিচে
এম এম মামুন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে দেড় হাজার বিঘা জমির বোরো ধান বিলকুমারি বিলের পানির নিচে। রাজশাহীর মোহনপুরে মাঘের শেষে হঠাৎ বৃষ্টিতে বিলকুমারি বিলে পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির বোরো ধান।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেলনা গ্রামের কৃষকরা। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ঠাকুর মান্দা খাড়ি দিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের নেমে আসা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলকুমারি বিলের মাঝখান দিয়ে সরকারি খাল রয়েছে। তা সম্পূন্ন ভরাট হয়ে গেছে। খালটি খনন না করায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় এই বিলের বোরো আবাদ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোপণকৃত ধানে সার, কীটনাশকসহ আগাছা পরিষ্কারের কাজ শেষ করেছেন কৃষকরা। আর দু-একবার কীটনাশক প্রয়োগ করলেই ঘরে উঠবে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সোনালি ধান।
বেলনা গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, বিলের অন্যের ১৩ বিঘা জমি বগা নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। মাত্র ৫ কাটা জমির ধান ভাল রয়েছে। বাকি জমিতে এখন জমিতে প্রচুর পানি। রোপণকৃত জমির ওপর দিয়ে এখন নৌকা চলে।
ওয়াসিম হোসেন নামের আরেক কৃষক বলেন, তিনি তার ওয়ারিশগন মিলে ৩০ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপন করেছেন। প্রায় ২৭ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে হাবুডুবু খাচ্ছে। এছাড়াও বলার নামক স্থানে পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় দিন দিন বিলকুমারি বিলে পানি বৃদ্ধি হচ্ছে। কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাল খননের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে। তারা খাল খননের কোন উদ্যোগ নেয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই ঠাকুর মান্দা হয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি অনায়াসে চলে আসে। ফলে তলিয়ে যায় বিলকুমারি বিলের রোপণকৃত ফসল। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় বন্যার। কৃষকদের দাবি, সরকারি খাল খনন করা হলে বৃষ্টির পানি অনায়াসে নেমে যাবে।
মোহনপুর উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিল কুমারি বিলের খালটি ভরাট হওয়ার কারণে প্রতিবছর সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। খালটি খনন করা হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।






















