রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেলেন প্রবেশপত্রবঞ্চিত ১৮ পরীক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেলেন প্রবেশপত্রবঞ্চিত ১৮ পরীক্ষার্থী
বগুড়া ও নাটোরের দুই কলেজে ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ; বিশেষ ব্যবস্থায় নিবন্ধন সম্পন্ন, শনিবার থেকেই পরীক্ষায় অংশ নেবে শিক্ষার্থীরা
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা বগুড়া ও নাটোরের দুটি কলেজের ১৮ শিক্ষার্থী অবশেষে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। ফলে শনিবার (৪ জুলাই) বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন তারা।
জানা গেছে, বগুড়া ও নাটোরের দুটি কলেজে কয়েকজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের কাছে টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেননি।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ২ হাজার ৪৯৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ২১ শতাংশ।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারণা করেছেন।
অন্যদিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থীও একই কারণে প্রবেশপত্র পাননি। তাদের অভিযোগ, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা শিক্ষাবোর্ডে জমা দেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, অনলাইনে ফরম পূরণে জটিলতা হওয়ায় তিনি অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের কাছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেন। পরীক্ষার আগের দিন থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন, তার ফরমই পূরণ করা হয়নি।
একই অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী সবুজ আহম্মেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, শিমুল, শাওন, সাব্বির ও তানভির হোসেন।
ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, একজন কর্মচারীর অবহেলা ও প্রতারণার কারণে তার মেয়ের উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি জানান, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি।
বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার অভিযোগ করেন, প্রবেশপত্র চাইলে কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন বারবার সময়ক্ষেপণ করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী হাসর মিয়া বলেন, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কাজটি করা হয়নি। এতে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে প্রথম বিষয়টি তার নজরে আসে। কলেজে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন শাওন ও অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, শুক্রবার বিশেষ ব্যবস্থায় ওই ১৮ শিক্ষার্থীর নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই নিবন্ধনের সব তথ্য ও কাগজপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়। অসাধু কিছু ব্যক্তির কারণে এ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন তারা শনিবারের বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
















