গোদাগাড়ীর দীপচর আষাড়িয়াদহে ১২৪ শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১৪ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীর দীপচর আষাড়িয়াদহে ১২৪ শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত
শাখা সীমাবদ্ধতায় পড়াশোনা অনিশ্চিত, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দীপচর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১২৪ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় তাদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকায় থাকা দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১৬৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার সুযোগ না থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এই চরাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে নদী পার হয়ে সন্তানদের অন্য এলাকায় স্কুলে পাঠানো সম্ভব নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাহারা খাতুনের বাবা শাহাদত হোসেন বলেন, “ভর্তি না হলে আর কী করার আছে? নদীর ওপারে তো মেয়েকে পাঠাতে পারব না।” তিনি অভিযোগ করেন, লটারিতে নাম না ওঠায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তাকে দুর্ব্যবহার করা হয়।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে মোট ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং বাকি ছয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। আগে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই ষষ্ঠ শ্রেণিতে সব শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিত। তবে চলতি বছর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি এবং চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি শাখা চালু রয়েছে। সে অনুযায়ী দুটি বিদ্যালয় সর্বোচ্চ ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নিতে পারবে। অথচ আবেদন করেছে ২৮৯ জন শিক্ষার্থী। ফলে ১২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দিয়াড়মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, আগে প্রতি শাখায় ৭০ থেকে ৯০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হতো। তবে এবার শিক্ষা বোর্ড কঠোরভাবে ৫৫ জনের বেশি ভর্তি না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ে শাখা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন, তবে চলতি শিক্ষাবর্ষেই অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না তা অনিশ্চিত।
চর আষাড়িয়াদহ কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলী বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে দুটি শাখায় সর্বোচ্চ ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া সম্ভব। কিন্তু আবেদন পড়েছে ২১৯টি। নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান, যদিও চরাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন।
চর আষাড়িয়াদহ বাজারের ব্যবসায়ী নেসার আলী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই উচ্চ বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও তাঁর মেয়ে শাকিলা খাতুন ভর্তির সুযোগ পায়নি। “ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাশ করলেই পাশের স্কুলে ভর্তি হবে। কিন্তু লটারিতে নাম ওঠেনি,”—বলেন তিনি।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুরাইয়া খাতুনের বাবা চাহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নদীর ওপারে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো সম্ভব না। ভর্তি না পেলে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে।”
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম জানান, চর আষাড়িয়াদহের ভর্তি সংকটের বিষয়টি তিনি অবগত। তিনি বলেন, “ভর্তি না পেলে বাল্যবিয়েই সমাধান—এমন ভাবনা কোনো সমাধান হতে পারে না।” শাখা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষককে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবেদন এলে বোর্ড দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে মতামত দেবে। এতে চলতি শিক্ষাবর্ষেই নতুন শাখা খোলার আশা করা যায়।
















