রাজশাহী মেডিকেলে মার্চেই হামে ১২ শি/শু/র মৃ’ত্যু
- আপডেট সময় : ০৭:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী মেডিকেলে মার্চেই হামে ১২ শি/শু/র মৃ’ত্যু
আইসিইউতে নেওয়ার পরও বাঁচেনি ৯ শিশু, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-পাবনায় সংক্রমণ বেশি; আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুতির কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি মার্চ মাসে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবশেষ শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে আরও তিন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সহায়তায় গত ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়। এতে আক্রান্তের হার দাঁড়ায় প্রায় ২৯ শতাংশ। সংক্রমণের দিক থেকে বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ১ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেলে ৮৪ জন হামের রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পর ৯ জন এবং আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চার শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে জহির ও হুমায়রা শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে মারা যায়। একই দিন শিশু হিয়া-রও মৃত্যু হয়।
রামেক হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় নিজের সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে দেখা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বারোরসিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। তিনি জানান, “তিন দিন আগে ঠান্ডা, জ্বর ও নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। এখানে এসে জানতে পারি, আমার বাচ্চার হাম হয়েছে। নার্সদের কাছ থেকে শুনেছি, এ রোগে আক্রান্ত আরও অনেক শিশু এখানে ভর্তি আছে।”
এদিকে, চিকিৎসাধীন শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা হৃদয় বলেন, “আমার মেয়েকে শনিবার (২৮ মার্চ) আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।”
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, “সংক্রামক ব্যাধির জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগী পাঠানো সম্ভব হয়নি। হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তা সম্ভব না হলেও ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, “পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি উদ্বেগজনক। পাবনা সদর হাসপাতালে শনিবার ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। তাদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিভাগের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখা এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া—এ তিনটি বিষয় এখন সবচেয়ে জরুরি।










