ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মান্দায় তেল সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, বাইকারদের তোপের মুখে সরে যান ওসি

আল আমিন স্বাধীন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০১ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মান্দায় তেল সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, বাইকারদের তোপের মুখে সরে যান ওসি

পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষোভ; ‘উচ্চমূল্যে খুচরা বিক্রি’র অভিযোগ, প্রশাসনের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার শাপলা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ বাইকারদের অভিযোগ, পাম্পে তেলের মজুত থাকলেও তা সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের না দিয়ে গভীর রাতে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল পাননি। এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৭টার পর থেকে শাপলা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়। তবে কিছু সময় পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা পর্যন্ত ৩ হাজার লিটার তেল বিতরণ শেষে সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ ঘোষণার পর লাইনে থাকা চালকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা ক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

ভুক্তভোগী বাইকার শরিফ উদ্দিন বলেন, “সকাল ৭টা থেকে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু হঠাৎ করে বলা হলো তেল শেষ। অথচ বিভিন্ন বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক মোটরসাইকেল চালক আসলাম হোসেন বলেন, “আমি সকাল ৬টা থেকে লাইনে ছিলাম। আমাদের সামনে যারা ছিল তারা তেল পেলেও আমরা পাইনি। তেল আদৌ শেষ হয়েছে কি না, সেটা নিয়েও সন্দেহ আছে।”

একজন ক্ষুব্ধ চালক অভিযোগ করে বলেন, “শুরুতে বলা হয়েছিল ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে। পরে ম্যানেজারের সিদ্ধান্তে ৫০০ টাকা করে তেল দেওয়ায় অনেকেই তেল পায়নি। যারা চাকরি করি, তেল না পেলে কাজে যেতে পারব না—তাহলে সংসার চলবে কীভাবে?”

মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করলে বিক্ষুব্ধ চালকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ বিষয়ে মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, “কাগজপত্র ছাড়া বাইকে তেল দেওয়া যাবে না—এমন কোনো নির্দেশনার বিষয়ে আমার জানা নেই। ওসি কেন এ কথা বলেছেন, সেটি আমি বলতে পারছি না।”

অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন,“রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না—এমন কোনো সরকারি নির্দেশনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তেল সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মান্দায় তেল সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, বাইকারদের তোপের মুখে সরে যান ওসি

আপডেট সময় : ১০:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মান্দায় তেল সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, বাইকারদের তোপের মুখে সরে যান ওসি

পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষোভ; ‘উচ্চমূল্যে খুচরা বিক্রি’র অভিযোগ, প্রশাসনের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

নওগাঁর মান্দা উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার শাপলা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ বাইকারদের অভিযোগ, পাম্পে তেলের মজুত থাকলেও তা সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের না দিয়ে গভীর রাতে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল পাননি। এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৭টার পর থেকে শাপলা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়। তবে কিছু সময় পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা পর্যন্ত ৩ হাজার লিটার তেল বিতরণ শেষে সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ ঘোষণার পর লাইনে থাকা চালকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা ক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

ভুক্তভোগী বাইকার শরিফ উদ্দিন বলেন, “সকাল ৭টা থেকে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু হঠাৎ করে বলা হলো তেল শেষ। অথচ বিভিন্ন বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক মোটরসাইকেল চালক আসলাম হোসেন বলেন, “আমি সকাল ৬টা থেকে লাইনে ছিলাম। আমাদের সামনে যারা ছিল তারা তেল পেলেও আমরা পাইনি। তেল আদৌ শেষ হয়েছে কি না, সেটা নিয়েও সন্দেহ আছে।”

একজন ক্ষুব্ধ চালক অভিযোগ করে বলেন, “শুরুতে বলা হয়েছিল ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে। পরে ম্যানেজারের সিদ্ধান্তে ৫০০ টাকা করে তেল দেওয়ায় অনেকেই তেল পায়নি। যারা চাকরি করি, তেল না পেলে কাজে যেতে পারব না—তাহলে সংসার চলবে কীভাবে?”

মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করলে বিক্ষুব্ধ চালকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ বিষয়ে মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, “কাগজপত্র ছাড়া বাইকে তেল দেওয়া যাবে না—এমন কোনো নির্দেশনার বিষয়ে আমার জানা নেই। ওসি কেন এ কথা বলেছেন, সেটি আমি বলতে পারছি না।”

অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন,“রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না—এমন কোনো সরকারি নির্দেশনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে তেল সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও ক্ষোভ বিরাজ করছে।