
প্রি-ক্যাডেট স্কুলে ক্যাম্প পরিচালনাকারীরা প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি; আগের দিন আরেকটি ক্যাম্পও বন্ধের দাবি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার
ফজলুর রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়মনীতি অনুসরণ না করে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার প্রি-ক্যাডেট স্কুলে মদিনা চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারের পরিচয়ে দুই ব্যক্তি চক্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি চশমা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক। ক্যাম্প পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রশাসনের অনুমোদনপত্র দেখতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা দেখাতে পারেননি। পরে তারা ক্ষমা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মদিনা চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারের পরিচয়ে আসা দুই ব্যক্তি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন। তবে তারা চক্ষু বিশেষজ্ঞ নন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ক্যাম্প থেকেই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ, ট্যাবলেট ও চশমা বিক্রি করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ায় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি হাসপাতালের নামে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার কথা প্রচার করা হলেও বাস্তবে রোগীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। এসব ক্যাম্পে চোখ পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র প্রদান এবং ওষুধ ও চশমা বিক্রির কার্যক্রম চলে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চোখে ছানি রয়েছে এমন রোগীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের কথা বলে অগ্রিম টাকা আদায় করা হয়। পরে নির্দিষ্ট দিনে অন্যত্র নিয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। তাদের দাবি, বিনামূল্যে চিকিৎসার আড়ালে সাধারণ ও অসহায় মানুষ আর্থিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব ক্যাম্পে নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিও থাকে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাম্পে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদনপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে ক্ষমা চাইলে ক্যাম্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) চকগোয়াশ বেগুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিশন কেয়ার চক্ষু হাসপাতালের একটি ক্যাম্প আয়োজনের জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের খবর পেয়ে ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগেই তা বন্ধ করা হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, বাগাতিপাড়ায় কোথাও এ ধরনের চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করা হলে সাধারণ মানুষকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, উপজেলা প্রশাসন অথবা জেলা প্রশাসনের অনুমোদনপত্র দেখে নেওয়া উচিত। অনুমোদনপত্র না থাকলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.