
৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৫ জন; জরাজীর্ণ ভবন ও ওষুধসংকটে ভোগান্তিতে গ্রামীণ রোগীরা
আল আমিন স্বাধীন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
জরাজীর্ণ ভবন, কোথাও নিজস্ব অবকাঠামোর অভাব, প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট এবং জনবলস্বল্পতা-সব মিলিয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসক না থাকায় ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এসব কেন্দ্রে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ফলে চিকিৎসার জন্য অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলায় মোট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে নয়টি। এর মধ্যে খাসমান্দা, মান্দা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর, জোতবাজার ও কালিগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে কক্ষ ভিজে যায়। এতে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংরক্ষণসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাকি পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের ভবনে কোনোভাবে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
জনবলসংকটও প্রকট। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা। সে হিসাবে নয়টি কেন্দ্রে মোট পদের সংখ্যা ৪৫টি। কিন্তু বর্তমানে কোনো কেন্দ্রেই এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। সব মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের বিপরীতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনবল দিয়ে চলছে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম।
সরেজমিনে কয়েকটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে অবকাঠামো ও জনবলসংকটের চিত্র দেখা গেছে।
জোতবাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ময়নুল হাসান বলেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। টিনের ছাউনি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ জায়গায় ফুটো রয়েছে। বৃষ্টি হলে কক্ষের ভেতর পানি পড়ে। এতে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, এ কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় তাকেই কেন্দ্রের তালা খুলে ঝাড়ু দিতে হয়। এরপর রোগীদের নাম-ঠিকানা ও রোগের বিবরণ রেজিস্টারে লিখে ওষুধ বিতরণ করতে হিমশিম খেতে হয়। বর্তমানে এ কেন্দ্রে তিনি ও একজন মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করছেন।
খাসমান্দা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিদিন এ কেন্দ্রে ৮০ জনের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হয়। কিন্তু ওষুধ সরবরাহের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মাসের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ওষুধ শেষ হয়ে যায়। ফলে মাসের বাকি সময়ে সেবা নিতে আসা রোগীদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। এতে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি ভবনটির নাজুক অবস্থার কারণে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
কোমরব্যথা, জ্বর ও কাশি নিয়ে খাসমান্দা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব ময়না বেগম। তার অভিযোগ, এসব সমস্যার জন্য তাকে শুধু প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও ওমিপ্রাজল দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
খাসমান্দা বাজারের বাসিন্দা সুফল কুমার বলেন, অবকাঠামো ও জনবলসংকটের কারণে গ্রামের মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং শূন্য পদগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব-উল আলম বলেন, জনবলসংকট ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.