
কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে কৃষিতে ঘটেছে ব্যাপক সম্প্রসারণ। চা, বাদাম ও ভুট্টার পাশাপাশি শাকসবজি উৎপাদনেও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে জেলাটি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় লাউ, করলা, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, বেগুন, মুলা, পটল, ঝিঙে ও কচুসহ নানা ধরনের সবজির আবাদ হচ্ছে। এসব সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও লাউয়ের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক কৃষক। একই সঙ্গে কমেছে সবজি পরিবহনে নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষের আয়ও।
শীতের আমেজে পঞ্চগড়ের মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের পাশাপাশি নানা ধরনের সবজির ক্ষেত। গ্রামের হাটবাজারে প্রতিদিন জমছে কৃষিপণ্য। সকাল হলেই শুরু হয় সবজি তোলা, বাছাই, বিক্রি ও পরিবহনের ব্যস্ততা। রাস্তার পাশে এবং গ্রামের মেঠোপথে চলছে লাউ, করলা ও চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির কেনাবেচা। এসব পণ্য পরিবহনে অটোরিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের সেই ব্যস্ততার আড়ালে রয়েছে হতাশা। আটোয়ারী উপজেলার কিসমত এলাকার ক্ষুদ্র কৃষক নাসির উদ্দীন জানান, কয়েক দিন আগেও তিনি প্রতিটি লাউ ১০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে পাইকাররা এক জোড়া লাউ কিনছেন মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকায়। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক সময় লাউ বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কিছু লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নাসির উদ্দীনের বাড়ির পাশেই লাউয়ের ক্ষেত। ইতোমধ্যে দুই থেকে তিন দফা ক্ষেত থেকে লাউ তুলেছেন তিনি। কৃষিকাজের আয় দিয়েই চলে তার সংসার। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়ায় এখন লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। একই এলাকার রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেক কৃষকও একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেশি থাকলেও উৎপাদিত সবজির দাম কমে যাচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্য বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেন হঠাৎ লাউয়ের দাম এতটা কমে গেল, তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর তারা পাচ্ছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মুঠোফোনে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তারা লাউ, করলা ও চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি পাঠান। এসব পণ্যের মূল্য ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়। পঞ্চগড়ের উৎপাদিত সবজি এভাবেই দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।
সবজি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত অটোরিকশাচালকেরাও আয় কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে একটি লাউ পরিবহনের জন্য তারা প্রায় এক টাকা পান। সারা দিন লাউ পরিবহন করে কোনো কোনো চালকের আয় হয় প্রায় ৫০০ টাকা। আগে একই কাজে আয় প্রায় দ্বিগুণ ছিল বলে দাবি তাদের।
পঞ্চগড় সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সবজি উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বহু মানুষ। কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পরিবহন, পাইকারি ব্যবসা ও স্থানীয় বাজারের নানা কর্মকাণ্ড। বাদাম, ভুট্টা ও সাগরকলার পাশাপাশি সবজি চাষও জেলার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো ক্ষেতজুড়ে রয়েছে লাউ, করলা, চিচিঙ্গা, শিম, মুলা, বরবটি ও বেগুনের আবাদ। তবে অন্য সবজির তুলনায় লাউয়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় কৃষকেরা বেশি চাপে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে বর্তমান অবস্থার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে গেলে শুধু কৃষকই নন, পরিবহন শ্রমিক ও কৃষিপণ্য বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত অন্যরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পঞ্চগড়ে সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা ধরে রাখতে তাই উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.