
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের শ্রীবরদীতে গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বালিঝুড়ি গ্রাম। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীটি এই গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীটির ওপর নির্মিত হয়নি কোনো সেতু। ফলে বালিঝুড়িসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়। সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, সোমেশ্বরী নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। ফলে প্রকল্পটির কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমেশ্বরী নদীর কারণে গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা খাড়ামোড়া, রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকুচা ও বালিজুরী গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। স্থায়ী সেতু না থাকায় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। তাদের কাছে সেতুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অন্যতম প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও নদী পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নদীর ওপর অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন তারা। কিন্তু বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়লে সেই সাঁকোও টিকে থাকে না। বছরে একাধিকবার সাঁকোটি ভেঙে যায়। তখন বাধ্য হয়ে নৌকায় কিংবা বুকসমান পানির মধ্য দিয়ে নদী পার হতে হয়।
নদী পারাপারের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হয়।
এলাকার বিএনপি নেতা গোলাপ হোসেন বলেন, সেতু না থাকায় কৃষকদের ফসল বাজারে নিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। আর কোনো রোগীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে গেলে অস্থায়ী সাঁকোটি তলিয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা জানান।
শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে 'হান্ড্রেড মিটার' প্রকল্পের আওতায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে চলে আসা মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সেতুমন্ত্রী, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এলাকায় একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.