
মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করেছে পদ্মা নদীর ভাঙন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পৌর এলাকার নদীতীরবর্তী স্থানে ভাঙনে ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভিটেমাটি ও ফসল হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমতলা ও খারিজাগাতি এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। একইভাবে গোদাগাড়ী পৌরসভার সারাংপুর, কাচারীপাড়া, রেলবাজার, কুঠিপাড়া ও বারুইপাড়া এলাকায়ও পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বারুইপাড়ার বাসিন্দা আফজাল সরকার ও সারাংপুর এলাকার রমজান আলী বলেন, পদ্মার পানি বাড়া-কমার সঙ্গে স্রোতের তীব্রতাও পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ফসলি জমি ও বসতভিটার কোনো না কোনো অংশ নদীতে ধসে পড়ছে। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অনেক পরিবারকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হবে।
ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তারা পৌর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কুঠিপাড়া, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, ভাঙন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।
এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গোদাগাড়ীর বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী পৌরসভার সারাংপুর থেকে রেলবাজার ঘাট পর্যন্ত নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জননেতা অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, এমপি।
ভাঙন রোধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় জিওব্যাগে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.