
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একই বিদ্যালয়ে একই সময়ে দুজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করায় দুই পক্ষের বিরোধ চরমে উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভিতরভাগ বাইআপ উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে মোট ১৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত উপস্থিত থাকছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন বলে জানা গেছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে চলমান বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। চলতি বছরের ৩০ মে তিনি অবসরে যান। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে রফিকুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে ২০১৭ সালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০২ সালে তাঁর নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। এ কারণে তাঁর আবেদন বাতিলযোগ্য হলেও তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম বেতন হিসেবে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৩৮ টাকা গ্রহণ করেছেন, যা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।
রফিকুল ইসলামের নিয়োগের পেছনে তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আজিজের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মো. মাহতাব হোসেন। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কমিটির মাধ্যমে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মাহতাব হোসেন আরও জানান, পরে এডহক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে একই সময়ে বিদ্যালয়ে দুজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, বিষয়টি অনেকদিন আগের হওয়ায় তাঁর ভালোভাবে মনে নেই। তবে কোনো অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিয়োগ পেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা বোর্ড আছে, আমি তাদের কাছে জবাব দেব। সাংবাদিকের কাছে কিছু বলব না। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে এই চেয়ারে বসিয়ে গেছেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন অভিযোগ করেছেন, ২০০১ সালে বিদ্যালয়ের পুকুর লিজের ৯৮ হাজার ১ টাকা বিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দিয়ে তৎকালীন সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এ অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী বলেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিযোগিতার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্তের পর দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.