
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে কৃষি ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের হলরুমে মহিলা ডিগ্রি কলেজের কৃষি ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা ডিগ্রি কলেজে উপযুক্ত পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকায় রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের হলরুমটি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পিয়ন) সরিফুলের মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিগ্রি কলেজের অফিস সূত্রে জানা যায়, মহিলা ডিগ্রি কলেজের নিজস্ব উপযুক্ত পরীক্ষাকেন্দ্র না থাকায় পরীক্ষার জন্য ডিগ্রি কলেজের হলরুম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা পরিচালনা ও সার্বিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মহিলা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সরিফুল বলেন, “আমি একজন পিয়ন। শিক্ষকরা আমাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই দায়িত্ব পালন করেছি। সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও মোস্তফা আমাকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিতে বলেছিলেন। তাই আমি নিয়েছি। এখানে আমার নিজের কোনো দোষ নেই।”
পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “নেকমরদ সরকারি কলেজের অধ্যাপক এ.কে.এম শামিম ফেরদৌস, ধর্মগড় ডি.কে কলেজের মহেশ চন্দ্র এবং আমি—আমরা তিনজন পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলাম। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও দেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও মোস্তফা পিয়ন সরিফুলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
এ বিষয়ে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত জানি না। কলেজে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.