ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মান্দায় অবৈধ মাটি উত্তোলনে ১ লাখ টাকা জরিমানা, মাদক সেবনে ৬ মাসের কারাদণ্ড আদিতমারীতে বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আহত একাধিক মান্দায় সারের দাবিতে কৃষকদের নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ মাদারগঞ্জে ৫০০ টাকা বাজিতে জী’বন্ত পাখি ছিঁ/ড়ে খাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ইউএনওর ভবন নির্মাণে আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি গণপূর্তমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পিবিআই তদন্তের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক বাউয়েটে বিসিএস ও সেনাবাহিনীতে ক্যারিয়ার গঠনবিষয়ক সেমিনার বগুড়ায় বিশ্ব মান দিবস পালিত, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার আহ্বান

জ্বালানি সংকটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের দাম কমেছে ৩০০-৪০০ টাকা

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৪২৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জ্বালানি সংকটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের দাম কমেছে ৩০০-৪০০ টাকা

পরিবহন সংকটে ক্রেতা নেই মোকামে, ক্ষতির মুখে কৃষক

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত এক মাসে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এতে কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাট-বাজার ও মোকামগুলোতে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, বাইরের জেলা থেকে ব্যাপারী-ফড়িয়া আসছে না। এমনকি স্থানীয়ভাবে ধান পরিবহনের জন্য ছোট যানবাহনও পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে চালকল মালিকরাও ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন, কারণ তারা উৎপাদিত চাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আমন মৌসুমে দেশে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ায় এসব এলাকায় চার শতাধিক স্বয়ংক্রিয় চালকল গড়ে উঠেছে।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আলী হোসেন, আলমগীর হোসেন ও আবু বাক্কার বলেন, আগে প্রতি মণ ধান ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। এতে প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শুধু ধান নয়, শাকসবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনেও ভাটা পড়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধান সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়ছে।

রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আল আমিন সরকার জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন চলাচল কমে গেছে, যা পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জ্বালানি সংকটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের দাম কমেছে ৩০০-৪০০ টাকা

আপডেট সময় : ০৯:১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের দাম কমেছে ৩০০-৪০০ টাকা

পরিবহন সংকটে ক্রেতা নেই মোকামে, ক্ষতির মুখে কৃষক

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত এক মাসে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এতে কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাট-বাজার ও মোকামগুলোতে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, বাইরের জেলা থেকে ব্যাপারী-ফড়িয়া আসছে না। এমনকি স্থানীয়ভাবে ধান পরিবহনের জন্য ছোট যানবাহনও পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে চালকল মালিকরাও ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন, কারণ তারা উৎপাদিত চাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আমন মৌসুমে দেশে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ায় এসব এলাকায় চার শতাধিক স্বয়ংক্রিয় চালকল গড়ে উঠেছে।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আলী হোসেন, আলমগীর হোসেন ও আবু বাক্কার বলেন, আগে প্রতি মণ ধান ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। এতে প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শুধু ধান নয়, শাকসবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনেও ভাটা পড়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধান সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়ছে।

রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আল আমিন সরকার জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন চলাচল কমে গেছে, যা পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।