
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি খাসপুকুরের টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে রাতারাতি ২০টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব সমিতির নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব সমবায় সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম, জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম এবং তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে একটি তিন সদস্যের সিন্ডিকেট প্রতিটি সমিতির নিবন্ধনের বিপরীতে লাখ টাকা করে উৎকোচ নিয়েছেন।
এ ঘটনায় গোদাগাড়ীর কাকন দরগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোলায়মান আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্তত ২০টি সমবায় সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাটপুকুর রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, দিগন্ত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., স্বপ্নপল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., অনির্বাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., উদয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., সাগুয়ান ঘুন্টিঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি., সাগুয়ান চৌকিপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. এবং কাজীপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডসহ বেশ কয়েকটি সমিতির নিবন্ধনে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো কোনো সমিতির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্মএলাকার বাসিন্দা নন। কোথাও একই ব্যক্তির স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ২০ সদস্যের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও ভুয়া ঠিকানা ও অস্তিত্বহীন অফিসঘর দেখানো হয়েছে। অনির্বাণ সমিতির ক্ষেত্রে জাহানাবাদ গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও সেখানে কোনো মৎস্যজীবী সদস্য নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া উদয় সমিতির নিবন্ধনে সংরক্ষিত মৎস্যজীবী কার্ড ব্যবহার ও স্বাক্ষর জালের অভিযোগ রয়েছে অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। সাগুয়ান ঘুন্টিঘর ও সাগুয়ান চৌকিপুকুর নামের দুটি সমিতির ক্ষেত্রে একই সদস্যদের নাম ব্যবহার করে একই দিনে নিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি খাসপুকুরের টেন্ডারে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২৯ জানুয়ারি। সেই সময়সীমার আগেই দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়, যাতে এসব সমিতি টেন্ডারে অংশ নিতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। উপজেলা অফিস থেকে ফাইল এলে যাচাই-বাছাই করেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি একজন ছোট কর্মচারী এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। পুকুর ইজারা বা বিক্রির অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, দুদকে অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। সিন্ডিকেট বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই এবং বিধি মেনেই সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.