বড়াল নদ হবে ইতিহাস ও রূপকথার গল্প!
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
বড়াল নদ হবে ইতিহাস ও রূপকথার গল্প! ধীরে ধীরে ইতিহাস ও রূপকথায় পরিনত হতে চলেছে বড়াল নদ। এর তলদেশে পলি মাটির ভরাট হয়ে পরিনত হয়েছে ফসল চাষাবাদের মাঠে। আর পারির ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ বাসস্থান। তাই পানির সীমানা সরু হয়ে নালার আকার ধারন করেছে। বড়াল নদের চর এখন শত শত একর আবাদযোগ্য কৃষি জমি। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে ভাগ্যও পরিবর্তন হচ্ছে বড়ালের।
এক সময়ের বড়ালের সেই যৌবন ভরা যৌলুশ রূপকথার গল্পের মতো ইতিহাস পরিনত হবে আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।
[caption id="attachment_3634" align="aligncenter" width="300"]
বড়াল নদের অবস্থা[/caption]
জানাযায়, রাজশাহীর চারঘাট বড়ালের উৎপত্তিস্থল। পদ্মার একমাত্র শাখা নদ এই বড়াল। পদ্মা থেকে বেরিয়ে আকাঁ-বাঁকা পথে চারঘাট, বাঘা, বাগাতিপাড়া বড়াইগ্রাম পেরিয়ে সিরাজগঞ্জে গিয়ে যমুনায় মিলেছে পদ্মার এই শাখা নদীটি।
ঐতিহ্যবাহী বড়ালের যৌবন চার যুগ আগেও ছিল টই-টুম্বরপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে নদীর দূ'কূল কানায় কানায় পূর্ণ থাকতো। সাথে থাকতো প্রখর স্রোত। কোন কোন সময় পলিযুক্ত বন্যার পানি দূ'কূল ঝাঁপিয়ে বিভিন্ন মাঠে প্রবেশ করত। সেই পলিমিশ্রিত পানিতে কৃষি জমির উবর্রা শক্তি বৃদ্ধি পেতো।
[caption id="attachment_3636" align="aligncenter" width="300"]
মৃতপ্রায় বড়ালের বুকে[/caption]
এতে বড়াল তীরবর্তি কৃষকরা কৃষকরা দ্বিগুন ফসল ফলিয়ে সারা বছর স্বাচ্ছন্দে সংসার চলতো। সে সময় নদীতে ছোট-বড় প্রচুর মাছ ছিল। জেলেদের মনে আনন্দ লেগেই থাকতো। কিশোর-কিশোরীরা মনের আনন্দে নদীতে সাঁতার কাটতো।
শুধু বাগাতিপাড়া উপজেলার বুক চিরে প্রায় ২২ কিঃ মিঃ পথ অতিক্রম করেছে। এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারণে বড়াল নদের দুই পাড়ে বাগাতিপাড়া থানা ভবন, দয়ারামপুর সেনানিবাসসহ জামনগর বাজার, তমালতলা বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে।
আগের যুগে মালামাল বোঝাই ছোট-বড় পালতোলা নৌকা দূর-দূরান্তে যাতায়াত করতো। বড় ব্যবসায়িরা পালতোলা নৌকাযোগে বিভিন্ন পণ্য বিভিন্ন স্থানে আমদানী-রপ্তানী করত।
কালের আর্বতে ও বড়ালের উৎপত্তিস্থল চারঘাটে স্লুইসগেট নির্মাণের ফলে বড়াল ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। বর্ষা মৌসুমে পদ্মা থেকে বড়ালে বন্যার প্রয়োজনীয় পানি প্রবেশ করে না। তাই শুস্ক মৌসুম থাকে প্রায় পানিশূন্য।
[caption id="attachment_3637" align="aligncenter" width="300"]
বাড়ালে বুকে ভুট্টার আবাদ[/caption]
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাগাতিপাড়া, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদীর চরে শত শত একর কৃষি জমি আবাদযোগ্য রয়েছে।
বাঘা এলাকার আনোয়ার নামে এক কৃষক জানান, তার পৈত্রিক জমির সাথে সংযুক্ত বড়ালের চরে দূ'একর জমিতে কৃষি আবাদ ধান, পেঁয়াজ, ভুট্টার মতো ফসল চাষ করেছেন।
বড়ালের নাব্যতাহীনতা ও নদীর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বড়ালের জেলে পরিবার। উপজেলার ঘোরলাজ গ্রামের আনিছুর বলেন, কয়েক বছর আগেও নদীতে প্রচুর মাছ শিকার করেছি, সারা বছর সংসার ভালোই চলতো কিন্তু এখন নদীতে আর পানিই থাকে না। তাই মাছও আর আগের মত নেই, আবাদি জমিহয়ে যাচ্ছে নদী। ঠিক একই কথা বলেন পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার ধুপইল গ্রামের পরিতস হালদার। তিনি বর্তমানে মাছ শিকার ছেড়ে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালান।
[caption id="attachment_3635" align="aligncenter" width="300"]
বড়াল এখন আবাদি জমি[/caption]
বড়াল রক্ষার দাবীতে নানা সংগঠন নানা কর্মসূচী পালন করে তারই ধারাবাহিকতায় দ্রুত নদের সীমানা নির্ধারণ করে খনন করে নদ রক্ষা, নদের ওপর নিভর্রশীল মানুষদের পাশে দাঁড়ানো ও পরিবেশ রক্ষাসহ কয়েকটি দাবিতে এ পদযাত্রার ঘোষণা দিয়ে গত বছর (২০২১) এর ২৮ মে নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে বাবা আরিফুল রহমান কনক ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান কথার তোলা ছবি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে পদযাত্রায় অংশ নিতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান আরিফুর রহমান কনক।
বাগাতিপাড়া উপজেলা শাখার নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, আমরা নদীর সীমানা নির্ধারণের কাজটি শেষ করেছি। নদী ড্রেজিংয়ের কাজটি করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সেই কাজটি এখনও দৃশ্যমান হয়নি। ইউএনও বলেন, চরের জমি কৃষি কাজের জন্য উপযোগী হওয়াই কৃষকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করছি।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.