ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুঠিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে চারজনের তিন মাসের কারাদণ্ড সিংড়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজমিস্ত্রি নিহত, আহত ১ লালপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবার, নিজ বাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার রাণীশংকৈলে নারীসহ দুইজনকে মাদক মামলায় কারাদণ্ড উন্নয়ন প্রশ্নে কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করি না- লালপুরে নারী এমপি তুলি তেঁতুলিয়ায় সেতুর দাবিতে মানববন্ধন, দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ১৫ হাজার কৃষক পুঠিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নারি নিহত, দুই কিশোর আহত লালপুরে ১১ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জয় আটক নলডাঙ্গায় গাঁজার গাছসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার, পলাতক ভাই ঝিনাইগাতীতে ৪৯০ ট্যাপেন্টাডল ও দুই মোবাইল ফোন জব্দ

রামেক হাসপাতালে ঘু’ষি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফা’টাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আটক ৩

এম এম মামুন, রাজশাহীঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ২৬০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রামেক হাসপাতালে ঘু’ষি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফা’টাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আটক ৩

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলায় এক আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।

আহত আনসার সদস্যের নাম ফিরোজ সরকার। আটক তিনজন হলেন—ভাড়ায় রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক রজব, আব্দুল্লাহ ও মারুফ।
তবে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে পরিচিত আল মামুন রাব্বুল, বাদশা, ডালিম ও আলিম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

সাক্ষীরা জানান, দুপুরে হাসপাতালের ৪ নম্বর ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরোজ সরকার। ওই ফটক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও একটি অ্যাম্বুলেন্স জোর করে ভেতরে ঢোকে। ফিরোজ বাধা দিলে চালকরা তা উপেক্ষা করে জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে রোগী তুলতে শুরু করে।
এ সময় আনসার সদস্য ফিরোজ প্রতিবাদ করলে এক চালক ঘুষি মেরে তার নাক ফাটিয়ে দেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা লাঠি-হাসুয়া নিয়ে বাইরে অবস্থান নেন, অপরদিকে আনসার সদস্যরাও মোতায়েন হন ফটকের সামনে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিনজনকে আটক করে।

রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মদ বলেন, “বহিরাগত এই অ্যাম্বুলেন্স চালকরা অত্যন্ত বেপরোয়া। তাদের মানবিক বোধ নেই, তারা সন্ত্রাসী আচরণ করছে। এ নিয়ে আমি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আজকের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য, রামেক হাসপাতাল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়।
তারা রোগী ও মরদেহ পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রামেক হাসপাতালে ঘু’ষি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফা’টাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আটক ৩

আপডেট সময় : ০২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

রামেক হাসপাতালে ঘু’ষি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফা’টাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আটক ৩

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলায় এক আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।

আহত আনসার সদস্যের নাম ফিরোজ সরকার। আটক তিনজন হলেন—ভাড়ায় রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক রজব, আব্দুল্লাহ ও মারুফ।
তবে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে পরিচিত আল মামুন রাব্বুল, বাদশা, ডালিম ও আলিম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

সাক্ষীরা জানান, দুপুরে হাসপাতালের ৪ নম্বর ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরোজ সরকার। ওই ফটক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও একটি অ্যাম্বুলেন্স জোর করে ভেতরে ঢোকে। ফিরোজ বাধা দিলে চালকরা তা উপেক্ষা করে জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে রোগী তুলতে শুরু করে।
এ সময় আনসার সদস্য ফিরোজ প্রতিবাদ করলে এক চালক ঘুষি মেরে তার নাক ফাটিয়ে দেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা লাঠি-হাসুয়া নিয়ে বাইরে অবস্থান নেন, অপরদিকে আনসার সদস্যরাও মোতায়েন হন ফটকের সামনে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিনজনকে আটক করে।

রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মদ বলেন, “বহিরাগত এই অ্যাম্বুলেন্স চালকরা অত্যন্ত বেপরোয়া। তাদের মানবিক বোধ নেই, তারা সন্ত্রাসী আচরণ করছে। এ নিয়ে আমি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আজকের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য, রামেক হাসপাতাল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়।
তারা রোগী ও মরদেহ পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।