শেরপুর-৩ আসনে এমপির কারনে আওয়ামী লীগের অবস্থা হযবরল!
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সংসদীয় আসন শেরপুর-৩ শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। বিগত ২০২২ সালের ৯ মে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ প্রায় ১ বৎসর ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে পূর্নাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত কমিটির সভাপতি আলহাজ এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম দলীয় অফিসে কর্মসূচি পালন করেন। আবার সাধারণ সম্পাদক দলীয় অফিসে আসেন না।
তিনি তার নিজস্ব অফিসে পৃথকভাবে কর্মসুচী পালন করেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু,জনের মধ্যে কথা তো দুরের মূখ দেখাদেখিও হয়না বলে সাধারণ মানুষ বলাবলি করছে। সর্বশেষ ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানও দলীয় অফিসে না এসে সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ অফিসে না গিয়ে পৃথক এ কর্মসুচীতে যোগ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল হক। অথচ মাত্র ৮ দিন আগে ৬ আগষ্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান সভানেত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলের সকল নেতৃবৃন্দকে গনভবনে ডেকে সকল দ্বন্দ বিভেদ নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। দলীয় প্রধানের এমন কড়া নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় এমপি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান করলেন আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে। এভাবে স্থানীয় এমপি দলের মধ্যে বিভেদ, গ্রুপিং সৃষ্টি করে গত ১৪ বৎসরে দলকে খন্ড খন্ড করে ফেলেছেন।শুধু ঝিনাইগাতী না একইভাবে তার নিজ উপজেলা শ্রীবরদীরও একই অবস্থা।
তিনি তার নির্বাচনী এলাকার দু,উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে কোনদিনই যাননি। এমপি সাহেব নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন সহযোগী সংগঠন যুব লীগ ও কৃষক লীগ নিয়ে। তাদের জন্য দু'উপজেতেই পৃথক অফিস নিয়ে দিয়েছেন। এদের দিয়েই "এমপি" লীগ বানিয়েছেন।বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া এমপি সাহেব এলাকায় আসেন না। তিনি ঠিকমতো দাড়িয়ে থাকতে পারেন না, কথাও তেমনভাবে বলতে পারেন না। কাল ভদ্রে হটাৎ দু'একবার এলেও দলের অফিসে যান না,জেলা শহরের সজবরখিলার নিজ বাসায় অবস্থান করেন অথবা ডাক বাংলো বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে বসেই কাজ সেরে ঢাকায় ফিরে আসেন।এমপির ঘনিষ্ঠ দু'একজন নেতা সাক্ষাৎ পেলেও অধিকাংশ নেতা কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ এমপির ধারে কাছেও ভীড়তে পারেননি। তার ডাকে জনগণ সারা দেয় না বা তার কাছে আসে না। তার এসব কারনে এমপি বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আবার কোন কোন সময় দেখা যায়, কোন অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে মূল দলের বাইরে "এমপি লীগের" অফিস তথা সহযোগী সংগঠন যুব লীগ বা কৃষক লীগের অফিসে বসেন। তাই এমপি চাঁন সাহেব এলে এলাকার লোকজন বলাবলি করেন আকাশের চাঁদ এসেছে। তার কারনে দলীয় নেতা-কর্মীরা উপেক্ষিত ও বঞ্চিত হয়েছেন। এসব কারণে এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে,দলীয় নেতা কর্মীর কোন সম্পৃক্ততা না থাকায় তার প্রতি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দলে এমপি হয়ে দলের সুবিধা ভোগ করেছেন আর ত্যাগী নেতা কর্মীরা হয়েছে তার কাছে উপেক্ষিত।
বিগত ১৪ বৎসরে তিনবারের এমপি চাঁন সাহেবের এলাকায় কর্মসূচি পালন বা সভা সমাবেশের ব্যানারগুলো খতিয়ে দেখলে প্রমাণ মিলবে।কোন ব্যানারে ক্ষুদ আওয়ামী লীগের নামের হদিস বা অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। ব্যানার পাওয়া যাবে শুধু সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুব লীগ আর কৃষক লীগের। আর তার অনুষ্ঠানে "এমপি লীগের " বাহিনীর লোক ছাড়া আওয়ামী লীগ বা সাধারণ মানুষ নেই। যার ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচার হচ্ছে না। এতেই বুঝা যায় দলকে তিনি প্রায় সাড়ে ১৪ বৎসরে কোথায় নিয়ে গিয়েছেন। তার কারনে আওয়ামী লীগ বর্তমানে দু' উপজেলাতেই আজ হ-য-ব-র-ল অবস্থায় খন্ড খন্ড হয়ে গেছে। তিনি দলকে উপেক্ষা করে নিজস্ব বাহিনী হিসেবে "এমপি" লীগ বানিয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে,টাকা হলে ডিও লেটার পাওয়া যায়। এ আসনের এমপির ডিও লেটার বেচা কেনার হিড়িক পড়ে গেছে।তিনি দলের নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপিসহ বিরোধীদের ডিও লেটার দিয়েছেন। নিজ দল আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও ডিও লেটার দিয়েছেন। তিনি দলীয় নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে ডিও লেটার দিতেও কার্পন্য করেনি। একটা উদাহরণ দিলেই সব সত্য প্রকাশ পাবে।
স্থানীয় উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটি থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কারাবরেণ্য জননেতা এসএম আমিরুজ্জামান লেবু সাহেবকে বাদ দেওয়ার জন্য এমপি একেএম ফজলুল হক সাহেব ডিও লেটার দিয়েছেন। ওই ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শেরপুর তাকে ওই কমিটি থেকে সড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি একই বিষয়ে বিবদমান দু'পক্ষকে ডিও লেটার দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আবার এক পক্ষকে ডিও লেটার দিয়ে পরবর্তীতে বিবদমানজ প্রতিপক্ষকে ডিও লেটার দিয়ে পরক্ষনেই এক পক্ষকে ডিও লেটার দেননি বলে তিনি তা অস্বীকার করার ঘটনারও উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। ঝিনাইগাতী হাজী অছি আমরন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ পাওয়া নিয়ে দু' পক্ষকে ডিও লেটার দিয়েছেন। যার কারণে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। ঝিনাইগাতী প্রেস ক্লাব নিয়ে দু'পক্ষকে ডিও লেটার দিয়েছেন।ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিবদমান দু'পক্ষে আওয়ামী লীগের কাউকে না দিয়ে দুই বিএনপির নেতাকে ডিও লেটার দিয়েছেন। লক্ষনীয় যে, এমপি সাহেব গত সাড়ে ১৪ বছরে দু' উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে একদিনও বসেননি। তিনি দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক নিয়ে কোনদিন একটা সভাও করেননি বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
অপরদিকে বিশেষ কোঠায় বরাদ্দ সাবমারসেবল নলকূপ যেখান স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো তদন্ত করলে দেখা যাবে তা ব্যবহারকারী কেউই ৩০/৩৫ হাজার টাকা সেলামী দেওয়া ছাড়া এসব নলকূপ তাদের ভাগ্যে জুটেনি। এভাবে সরকারী সাবমার্সেবল নলকুপ পেতে সেলামীর ঘটনা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বদনাম কুড়িয়েছে। যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা ক্ষোভে তার কাছে কেউ দেখাও করতে যান না। ওই বাসায় "এমপি লীগের" কিছু নেতা কর্মীকে দেখা যায়। সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনে দেখা করতে এলে মুষ্টিমেয় কিছু নেতা কর্মী ছাড়া বেশীরভাগ মানুষকে তিনি চিনেনই না। দলীয় নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ না চেনার কারণে তার কাছে মানুষ যায়না। যে কারণে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় এমপি লীগের গুটি কয়েক লোক ছাড়া আওয়ামী লীগ বা সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না।অপরদিকে এমপির পিএস স্বশিক্ষিত আমিনুল ইসলাম আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন।তার অগনিত সম্পদ। এক সময় রিক্সা ভাড়া না থাকায় পায়ে হেটে চলাফেরা করতো। এখন প্রইভেট কার ছাড়া চলেন না। শেরপুর জেলা শহর ও ঢাকায় প্লট আর অঢেল সম্পদের মালিক। দুদক তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোঃ মজিবর রহমান বলেন,এমপি সাহেব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সহযোগী সংগঠন যুব লীগ আর কৃষক লীগের কিছু নেতা কর্মী নিয়ে আছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ শরিফ উদ্দিন সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের এতো উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু তার প্রচার নেই। কারন এমপি সাহেব হটাৎ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেও সেইখানে এমপি লীগের গুটি কয়েকজন ছাড়া সাধারন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। যে কারণে উন্নয়ন কাজের প্রচার হচ্ছে না।ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন,এমপি সাহেব কখনো দলীয় অফিসে আসেন না। তিনি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন না। দলের নেতা কর্মীর সাথে কখনো পরামর্শ করেন না। মোট কথা মূল দলকে বাদ দিয়ে তিনি গুটি কয়েক লোক নিয়ে সকল কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মতাহারুল ইসলাম লিটন বলেন, এমপি সাহেব একদিনের জন্যও স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে আসেননি বা বসেননি। তিনি কৃষক লীগের আলাদা অফিস নিয়েছেন। হটাৎ এলে ওখানেই বসেন।আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীর সাথে তার কোন সম্পর্কে নেই। তিনি সোজা হয়ে ঠিকমতো দাড়িয়ে থাকতে পারেন না। কথাও তেমন শ্পষ্ট করে বলতে পারেন না। এসমস্ত ছাড়াও বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়ার কারনে তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল হক বলেন, নৌকার বিরোধীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা নানান অপবাদ দিচ্ছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.