
অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বকেয়া থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিনা আক্তারের পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা বকেয়া ছিল। গত ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তাকে অপমান করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)ও সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানাতে পারবেন।
সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল বলেন, পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর বকেয়া থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। দিনা আক্তারও তাদের মধ্যে ছিল। তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিনা আক্তার জানায়, বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেনি। বিষয়টি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষিকার কাছে অনুরোধ করলেও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপমানবোধে সে বাড়ি ফিরে যায়। ফলে পরদিনও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে দাবি তার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করছে না। এমনকি পরদিনও কোনো শিক্ষক তার খোঁজ নেননি বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের আরও মানবিক হওয়া উচিত ছিল।
শিক্ষার্থীর বাবা দুলাল হুসেন বলেন, “আমরা বাড়িতে না থাকায় মেয়ে সময়মতো টাকা দিতে পারেনি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়নি। এতে আমার মেধাবী মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সভায় থাকায় অভিযোগপত্রটি তখন হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.