
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেও প্রকৃতিতে ভিন্ন এক সৌন্দর্য এনে দিয়েছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। আগুনঝরা লাল রঙে সেজে উঠেছে রাজশাহীর গ্রামীণ পথঘাট। সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুলে চারপাশ যেন হয়ে উঠেছে রঙিন এক চিত্রপট।
রাজশাহী মহানগরীর মহাসড়ক থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ মেঠোপথের দুই ধারে এখন গাছে গাছে চোখে পড়ছে টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বৈশাখের প্রখর রোদ্দুরের সব উত্তাপ যেন ধারণ করে আছে এই রক্তিম পুষ্পরাজি। সবুজের মাঝে লালের এই সমারোহ প্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য এক আবেদন।
এমন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন পথচারী, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষ। অনেকেই কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে নিজেদের মুহূর্ত স্মার্টফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়েছে। সবুজের মাঝে লাল ফুলের এই দৃশ্য মনকে প্রশান্ত করে। কড়া রোদ কিংবা বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে ওঠে।
দর্শনার্থীরা জানান, এমন দৃশ্য বারবার দেখলেও মুগ্ধতা কাটে না। তবে দিন দিন গ্রাম ও শহর থেকে এই গাছ কমে যাওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণের ওপর গুরুত্ব দেন।
উদ্ভিদবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়ার আরেক নাম গুলমোহর, যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। সাধারণত লাল, হলুদ ও সাদা—এই তিন রঙের কৃষ্ণচূড়া দেখা যায়।
স্থানীয় গৃহবধূ তানজিমা ইসলাম সোনালী জানান, লাল রঙের ফুলকে কৃষ্ণচূড়া এবং হলুদ রঙের ফুলকে রাধাচূড়া বলা হয়। তবে বর্তমানে হলুদ রঙের রাধাচূড়া খুব একটা চোখে পড়ে না। এপ্রিল-মে মাসে এই ফুল বেশি ফোটে এবং তখনই এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে।
তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে এখন কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে, যা দূর থেকে দেখলে লাল চাদরের মতো মনে হয়।
স্থানীয় তরুণী সোনিয়া, আসমা ও হাসনা হেনা জানান, এই সময় গ্রামাঞ্চলে কৃষ্ণচূড়া ফুলের লাল আভা প্রকৃতিকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলে।
শিক্ষার্থী ইয়ামিন হোসেন বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, গ্রীষ্মের খরতাপে ছায়াও দেয়। এর ভেষজ গুণও রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। তিনি বেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন বিশ্বাস বলেন, গ্রীষ্মকালে নতুন পাতা, ফুল ও ফলে প্রকৃতি ভরে ওঠে, আর কৃষ্ণচূড়া সেই সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.