রাজশাহীতে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি, গবাদিপ*শু নিয়ে বিপাকে চরবাসী
রাজশাহী পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে চর গুলো ডুবতে শুরু করেছে। চরবাসী গবাদি পশু ও মালপত্র নিয়ে লোকালয়ে ফিরে এসেছেন। তবে গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে চরবাসী। পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় শহরের টি-বাঁধে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে দোকানপাট।
মঙ্গরবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজশাহীর পদ্মায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দমশিক ৪৪ মিটার। যা বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে। সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে সীমান্তে পদ্মার পানি ছিল ১৭ দশমিক ৩৯ মিটার। আর রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূন্য ০৫ মিটার। ফলে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। গেল ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী পয়েন্টে পানি বেড়েছে দশমিক ১৭ মিটার।
এদিকে, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে টি-বাঁধ পরিদর্শন বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর পদ্মার পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৬৩ মিটার নীচ দিয়ে পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী পয়েন্টে রোববার (১০ আগস্ট) সকাল ৬টায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৩ মিটার। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২২ মিটার। সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ৬টায় পানি বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ৩২ মিটার। আর একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৩৯ মিটার। সবশেষ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল ৬টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৪২ মিটার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই থেকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। সেদিন পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৩৫ মিটার। তারপর আবার তা কমে যায়। আবার একই মাসের ৩১ জুলাই থেকে পানি বাড়তে থাকে। তার পর থেকে পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর এলাকার প্লাবিত হয়েছে। ফলে চর থেকে গবাদিপশু লোকালয়ে নিয়ে আসছেন চরের বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতলি ইউনিয়নের ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দী। শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ২ হাজার, উজিরপুর ইউনিয়নের ৪৫০ ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী জীবন যাপন করছে।
সোমবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী তালাইমারী, বাজে কাজলা ও পঞ্চবটি এলাকার শিক্ষার্থীরা পানির মাড়িয়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। চর খিদিরপুরের বাসিন্দা করীম বলেন, পদ্মা পানি বেড়েছে। জেগে উঠা চর গুলো ডুবে গেছে। ফলে চরের বেশিরভাগ মানুষ লোকালয়ে চলে এসেছেন। এছাড়া গবাদি পশুগুলো নদী থেকে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে এক ধরনের গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
এক চরের বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন বাড়ছে পদ্মার পানি। সারাদিন চরের মানুষ তাদের মালামাল নৌকায় করে লোকালয়ে নিয়ে আসছে। এই পাশে অনেকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে রাখছেন। কেউ কেউ ভাড়া বাড়িতে উঠছেন। তবে যাদের গবাদি পশু রয়েছে। তারা পড়ছেন বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে এখনো অনেক গবাদি পশু চরে রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রাজশাহী পবা উপজেলার হরিয়ানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বলেন, পদ্মা নদীর পানিতে অনেক চর ডুবে গেছে। অনেকের বাড়ির কাছা কাছি পানি উঠে গেছে। অনেকেই চর ছেড়ে লোকালয়ে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে গবাদি পশুর নিয়ে। অনেকেই গবাদি পশু লোকালয়ে নিয়ে গেছে। এখনও অনেক গবাদি পশু চরে রয়েছে।
পাউবো রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, রাজশাহী পয়েন্টে প্রতিদিনই পদ্মার পানি বাড়ছে। এতে চরসহ পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় পানি উঠেছে। দুইদিন পানি আরো বাড়তে পারে। অবশ্য বন্যার আশঙ্কা নেই। এছাড়া আমাদের তরফ থেকে বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বাঁধ এলাকায় কিছু হলে আমাদের কার্যক্রম চলবে।
পাউবো রাজশাহী পশ্চিম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মুখলেসুর রহমান বলেন, পানি বাড়ছে, আরো কয়েকদিন এভাবে বাড়বে। তবে রাজশাহী নগরীর টি-গ্রোয়েনের নিরাপত্তায় জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে প্রবেশাধিকারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সেখান থেছে সরে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৮ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটারে ওঠে। এরপর আর কখনো পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে এবার বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.