
খরার তাপে পুড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী। তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির অভাবে আমের গুটি ঝরে পড়ছে, আর গাছে গাছেই ফেটে নষ্ট হচ্ছে কাঁচা ও আধা পাকা লিচু। ফলে বাজারে ওঠার আগেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। এতে চলতি মৌসুমে আম ও লিচুর উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গাছে আমের গুটি শুকিয়ে কালচে হয়ে ঝরে যাচ্ছে। কোথাও গুটিতে দাগ পড়ে পচন ধরছে। অন্যদিকে, লিচু গাছে ফেটে নষ্ট হচ্ছে ব্যাপক পরিমাণ ফল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
[caption id="attachment_38313" align="aligncenter" width="300"]
collected[/caption]
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে এ বছর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় বাগানের পরিমাণ কমেছে ৫৪১ হেক্টর। অপরদিকে, লিচুর আবাদ কমলেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ টন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
নগরীর বুধপাড়া এলাকার আম চাষি আবু হেনা জানান, গাছে ভালো মুকুল এলেও বৃষ্টি না থাকায় গুটি টিকছে না। প্রতিদিন ঝরে পড়ায় সম্ভাব্য ফলন অনেকটাই কমে যাবে। আরেক চাষি শামিম বলেন, গাছের গোড়ায় পানি দিলেও ডিজেলের সংকটের কারণে পুরো বাগানে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
লিচু চাষিরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। পবা উপজেলার চাষি আব্দুল মালেক বলেন, কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর হঠাৎ আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় লিচুর খোসা ফেটে যাচ্ছে। অনেক গাছে অর্ধেকের বেশি ফল নষ্ট হয়ে গেছে। গোদাগাড়ীর চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন খরচ তুলতে পারা নিয়েই এখন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে। মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে ফলের খোসা দ্রুত প্রসারিত ও সংকুচিত হওয়ার ফলে চাপ তৈরি হয়, যা সহ্য করতে না পেরে আমের গুটি ঝরে পড়ে এবং লিচু ফেটে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ আর্দ্রতা বাড়লে এই সমস্যা আরও বাড়ে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিলে গুটি ঝরা ও লিচু ফাটা কিছুটা কমানো সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আম ও লিচু অত্যন্ত সংবেদনশীল ফল। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সামান্য পরিবর্তনেও এর ওপর বড় প্রভাব পড়ে। কৃষকদের নিয়মিত হালকা সেচ ও মালচিং করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এখনো সময় আছে। সঠিক পরিচর্যা করা গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে আবহাওয়া অস্থির থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.