
ভূমিকম্পে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের পশ্চিম ব্লকের একটি অংশ হেলে পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ভবনের দেয়ালে নতুন ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে হলের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হলটি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন। পরে প্রশাসন হলটি সরেজমিন পরিদর্শন করে। এসময় রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ ছাত্রসংসদের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
[caption id="attachment_34816" align="aligncenter" width="300"]
collected[/caption]
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহু পুরোনো এই হলটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়া, দেয়ালে ফাটল ধরা, কাঠামোর দুর্বলতা—এসব অভিযোগ বহুদিনের। তাদের দাবি, সকালে ভূমিকম্পের পর হলের পশ্চিম অংশ হেলে পড়েছে। তবুও প্রশাসন দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কথা বলছে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী খালিদ আল হাসান বলেন, “ভূমিকম্পের পর দেখি পশ্চিম ব্লক দেবে গেছে। আমরা যেখানে ৩০০ জন থাকি, সেখানে প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, আমাদের জীবনের মূল্য কোথায়?” তিনি অভিযোগ করেন, প্রাধ্যক্ষ ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে আসেন।
অন্য শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন জেমস বলেন, “১৯৬২ সালে নির্মিত এই হলটিতে কোনো আরসিসি কলাম নেই। পুরো কাঠামো ইটের পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে। ভূমিকম্পের সময় মনে হচ্ছিল ছাদ ভেঙে পড়বে। আমরা ১০ ফুট ওপর থেকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে আছি।”
তিনি রাতের মধ্যেই নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানান।
অবস্থার গুরুতরতা যাচাই করতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে উপ-উপাচার্য বলেন, “আগেও ইঞ্জিনিয়ারিং টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসে দেখেছিলাম ভবনটির হেলে পড়া ও ফাটল রয়েছে। আজকের ভূমিকম্পের পর অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্টের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হলটি এখনই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে কিনা সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। জুমার নামাজের পর জরুরি বৈঠকে বসে ৩০০ শিক্ষার্থীকে কীভাবে দ্রুত পুনর্বাসন করা যায় তা ঠিক করা হবে।”
শেরে বাংলা ফজলুল হলের প্রাধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “হলটি নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পরীক্ষা–টিউটোরিয়াল চলমান থাকায় হুট করে হল বন্ধ করা সম্ভব নয়। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.