
রাজশাহীর বাঘায় ট্রাকভর্তি জিরা লুটের অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার বাদী হয়ে বাঘা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
এর আগে গত ৬ মে আড়ানী পৌরসভা এলাকায় পাবনার এক পাইকারি ব্যবসায়ীর ৩০০ বস্তা জিরা লুটের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মীমাংসার আশ্বাসে মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আড়ানী পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সুজাত আহম্মেদকে (৫৫)। অন্য আসামিরা হলেন তার ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), ভাগনে মো. সুইট (২৫) ও মো. শান্ত (২৮)।
মামলার বাদী ফেরদৌস সরদার পাবনার সুজানগর উপজেলার চর চিনাখড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমদানিকৃত পণ্যের পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলামের মাধ্যমে আসামিরা ৩০০ বস্তা জিরা কেনার জন্য যোগাযোগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী গত ৬ মে ভোরে পাবনা থেকে একটি ট্রাকে ৯ হাজার কেজি জিরা আড়ানীতে পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা হিসেবে জিরার মোট মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল ৮টার দিকে ট্রাকটি আড়ানীতে পৌঁছালে ১৫০ বস্তা জিরা একটি ভটভটিতে এবং বাকি ১৫০ বস্তা সুজাত আহম্মেদের গুদামে নামানো হয়। পরে টাকা চাইলে ক্রেতাপক্ষ পূবালী ব্যাংকের সই করা একটি ফাঁকা চেক দেয়। নগদ ২৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বাকি টাকা ব্যাংক খোলার পর চেক জমা দিয়ে পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলাম জানান, পরে গুদামে গিয়ে দেখা যায় সেখানে রাখা জিরার বস্তাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ব্যাংকে গিয়ে চেকের বিপরীতে কোনো অর্থ না থাকায় প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর টাকা চাইলে নানা টালবাহানা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে চাকুর ভয় দেখিয়ে চেকটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পরদিন ভোরে বাঘা থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় ১১০ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৬৫ বস্তা জিরা উদ্ধার হলেও বাকি জিরা বা টাকার কোনো হদিস মেলেনি।
এ বিষয়ে বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৭৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করে দিয়েছেন। এরপর ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত সুজাত আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার ভাগনেরা জিরা কিনেছিল এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হীরেন্দ্রনাথ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে কিছু জিরার বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি জিরা উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.