প্রশংসার সাগরে ভাসছেন বড়াইগ্রামের ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস
নাটোর বড়াইগ্রাম উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। যোগদান করার পর থেকেই দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। যোগদানের ১ বছরের মধ্যে তিনি উপজেলার উন্নয়নে অসংখ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার কাছে আসা সব সেবা প্রার্থীকে তিনি হাসিমুখে কাঙ্খিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি তার দপ্তরকে সম্পূর্ণরূপে দালালমুক্তকরণে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে উপজেলা চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম কমেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসতে বা সেবা গ্রহণের জন্য কোন দালাল বা কোন নেতাকে ধরে আসতে হয় না পা ফাটা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুণীজন, সুধীজন, সমাজসেবক, শিক্ষাঅনুরাগী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক আপাল বিদ্যাবণিতা শিশু-কিশোর নানা পেশার লোকজন নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহণের জন্য যেকোনো মুহূর্তেই তার নিকট গেলেই সেবা দরজা সব সময় খোলা থাকে।
এছাড়া ৫ ই আগস্ট সরকার পতনের পর হতে তিনি একাধারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল কলেজ মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ক্যাথলিক চার্জ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তদারকি করছেন। এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন ভালোভাবে চলে তার সার্বিক খোঁজ খবর এবং খেয়াল রাখছেন তিনি।
এছাড়াও তিনি একজন প্রকৃত প্রেমী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত চারিদিকে সৌন্দর্যকে কিভাবে বর্ধন করা যায় তা নিয়ে তিনি সদাই ব্যস্ত থাকেন। তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ফুলের বাগান করে করেছেন। রাস্তাঘাট নির্মাণের অসমাপ্ত কাজগুলো যাতে সম্পূর্ণ সঠিকভাবে নির্মাণ হয় তার দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখছেন। সৌন্দর্য বর্ধনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন তিনি। পর্যটন শিল্পের বিকাশে নাটোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার ৪ নং নগর ইউনিয়নের পাঙ্গিয়ার দিঘী নামে খ্যাত দিঘি থেকে সংস্কার করে দিঘির চারপাশে বৃক্ষরোপন সহ আগত দর্শণার্থীদের সুবিধার্থে শৌচাগার চালুকরণ ও সম্পূর্ণ পার্কে ট্রেইল নির্মাণের উদ্যোগও নেন লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। এই পার্কে কাজ সম্পন্ন শেষ হলে পর্যটন শিল্পের এত উন্নয়ন সাধিত হবে বলে জানান এলাকাবাসী।
এদিকে উপজেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার ভিত্তিতে নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষার্থে সব খাল জলমহালের আওতাধীন থেকে অবমুক্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। যা বাস্তবায়ন হলে মিষ্টি পানি আধার তৈরির পাশাপাশি কৃষি কাজে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। উপজেলার হাট বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেসহ প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান বিষয়টি নিজ দায়িত্বে তদারকির মাধ্যমে চলমান রেখেছেন এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । যার কারণে এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের মানুষেরা উপকৃত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভূমিহীন বলেন, পূর্বে বিভিন্ন দালালচক্র খাসজমি দেওয়ার নামে আমাদের কাছে থেকে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতেন, কিন্তু আমরা জমি পাইনি। বর্তমান লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস স্যার আমাদের জমির ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।এবং আমাদের থাকার উপযোগী আবাসন তৈরি করেতে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার জন্যই আমরা এখন সরকারি আবাসন ঘরে বসবাস করতে পারছি।
দীর্ঘদিন ব্যাংক এশিয়া সোশ্যাল সেফটি নেটের আওতায় থাকা ভাতাভোগীদের টাকা বিতরণে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম চলমান রাখার বিষয়ে কঠোর হস্তে দমন করেছেন তিনি। যার কারণে নির্বিঘ্নে সব ভাতাভোগী তাদের প্রাপ্ত টাকা পাচ্ছেন। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেধা বিশ্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান, উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা, হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ যাবতীয় সহযোগিতা করে থাকেন। সামাজিক বনায়ন,বৃক্ষরোপণ, যৌতুক দেব না নেব না, বাল্যবিবাহ দেওয়া যাবে না বিষয় প্রচার প্রচারণা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রতিটি শিক্ষিত অশিক্ষিত লোকজনদেরকে নিয়ে জনসচেতন মূলক কাজ সার্বিক ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। তিনি ত্রাণ সামগ্রী পৌছানো নিশ্চিতকরণ, শীতার্ত মাঝে কম্বল বিতরণ, তৃষ্ণার্থদের মাঝে সুপ্রিয় পানির ব্যবস্থার জন্য, বিভিন্ন হাট বাজারে স্কুল কলেজে সাবমারসিবল সহ টিউবওয়েল বসানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
এছাড়াও সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করণসহ সার্বিক পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার্বিক ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে সফলতা দেখিয়েছেন। এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের কল্যাণে আগত সরকারি সাহায্যসমূহ সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে বন্টনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ ক্রীড়া ও শিল্পের উন্নয়নে উপজেলা ক্রীড়া কমিটি ও উপজেলা শিল্পকলা কমিটি পূর্ণগঠন ও কার্যকারীকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় সামাজিক বনায়ন ধ্বংসের প্রচেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করেন তিনি। এসব কাজে আইন, বিধি-বিধান প্রতিপালনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে যাচ্ছেন এ সরকারি কর্মকর্তা।
এসব বিষয়ে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সুপেয় পানির সংকট সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ইউনিয়নে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের খাল ভরাট হয়ে যাওয়া নদী নালা সংস্কারের কাজ নিজস্ব তত্ত্ববধানে নিজের দক্ষতাতে করেছেন। এবং বড়াইগ্রাম উপজেলায় জমি কেটে পুকুর খননের কাজকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছেন। এতে কৃষি জমির একদিকে যেমন উপকার হয়েছে তেমনি ফসলের উন্নয়ন বেড়েছে। বেকার সমস্যার সমাধানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ফ্রিলান্সার তৈরি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ চলছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে সোলার ভিলেজ তৈরিসহ ভবিষ্যতে আরও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.