ঠাকুরগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ২৬দিন পর লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার তিন
ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মিলন হোসেন নামের ২৩ বছরের এক কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ লাখ টাকা দাবি করলে সেই টাকাও দিয়েছিল মিলনের পরিবার। কিন্তু মুক্তিপণের টাকা দিয়েও কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে জীবিত পেল না পরিবার। অপহরণের ২৬ দিন পরে মিলেছে মিলনের গলিত লাশ। এ ঘটনায় পুলিশ সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকার মো. মতিয়র রহমানের ছেলে ২৮ বছরের সেজান আলী, মাদারগঞ্জ আরাজি পাইকপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ২৫ বছরের ছেলে মুরাদ এবং সালান্দর তেলিপাড়া এলাকার মো. আব্দুর রাজ্জাকের ১৯ বছর বয়সী মেয়ে রত্না আক্তার ইভা আটক করেছে। নিহত মিলন হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাও এর চাপাপাড়া এলাকার পানজাব আলীর ছেলে ও দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।
অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজপড়ুয়া মিলনকে অপহরণ করে একটি চক্র। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিকের পেছনে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। ঘটনার দিন রাত ১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ফোনে অপহরণের বিষয়টি জানায় চক্রটি। প্রথমে মুক্তিপণের জন্য ৩ লাখ টাকা চায় অপহরণকারীরা। পরে চক্রটি আরও ৫ লাখ দাবি করে। দফায় দফায় টাকার পরিমাণ বাড়াতে বাড়াতে সবশেষ ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী চক্র। গত ৯ মার্চ রাতে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা অপহরণকারী চক্রের কাছে বুঝিয়ে দেন মিলনের বাবা পানজাব আলী।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ বেশ কিছুদিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছিল কিন্তু কোন ক্লু পাচ্ছিলাম না। পরে বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে প্রযুক্তির সহযোগিতায়া সেজান আলী ও মুরাদ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে তারা মিলন হোসেনকে হত্যা করেছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকালে গ্রেপ্তারকৃত সেজান আলীর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের নিচ থেকে মিলনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং রত্না আক্তার ইভাকে আটক করা হয়। পুলিশ সুপার আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হলে সেই মামলায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আরো তদন্ত চলছে, অন্য কেউ জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.