
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি তেল (ডিজেল) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিন ধরে চলা এই সংকটে চরাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তেলের অভাবে অধিকাংশ নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর আলাতুলী, দেবীনগর, ইসলামপুর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়ন। এসব এলাকার মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য রেলবাজার, হাটপাড়া, সুলতানগঞ্জ ও ফুলতলা ঘাট ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। বর্তমানে এসব রুটে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় তেলের সরবরাহে কড়াকড়ি বা রেশনিংয়ের কারণে মাঝিরা প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন কয়েকশ নৌকা চলাচল করত, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি নৌকা চলছে। একবার যাতায়াতে ৩ থেকে ৪ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও তা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন মাঝিরা।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “নৌকা না চলায় সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। যে দু-একটি নৌকা চলছে, তাতে তিল ধারণের জায়গা নেই। এতে আমাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
চর আলাতুলী ঘাটে একই চিত্র দেখা গেছে। অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে শহরে যাওয়ার জন্য ভোরে ঘাটে এসেও চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে আম্বিয়া নামের এক নারীকে। তিনি বলেন, “চরের মানুষের জীবন নদীর ওপর নির্ভরশীল। তেলের অভাবে সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন অসহায়।”
রেলবাজার খেয়া ঘাটের মাঝি আবু তালেব বলেন, “তেল নাই, তাই নৌকা নামাতে পারছি না। লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে এখন আমাদের না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছে।” হাটপাড়া ঘাটের মাঝি মোমিন জানান, যাত্রী থাকলেও তেল না থাকায় তারা নৌকা ছাড়তে পারছেন না, ফলে তাদের আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
নৌকা সংকটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেককে দীর্ঘ পথ ঘুরে বাড়তি ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরাঞ্চলের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
প্রধান নির্বাহী পরিচালক: এ, এস, এম, আল-আফতাব খান সুইট
০১৯১১৫০১৩১৪
০১৭৭৬২৩০৮০৮
সম্পাদক: অধ্যক্ষ মো: সাজেদুর রহমান
০১৭১৩৭৪৬৭২৭
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: জাকির হোসেন রবিন
০১৮৮০৫৫০৬৫৭
সাব এডিটর: এম এম মামুন
০১৭২৭৬৬৪৫০০
Copyright © 2026 Channel A News. All rights reserved.