রামেক হাসপাতালে ঘু’ষি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফা’টাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আটক ৩
- আপডেট সময় : ০২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ২০৯ বার পড়া হয়েছে

রামেক হাসপাতালে ঘু’ষি মেরে আনসার সদস্যের নাক ফা’টাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আটক ৩
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলায় এক আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।
আহত আনসার সদস্যের নাম ফিরোজ সরকার। আটক তিনজন হলেন—ভাড়ায় রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক রজব, আব্দুল্লাহ ও মারুফ।
তবে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে পরিচিত আল মামুন রাব্বুল, বাদশা, ডালিম ও আলিম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
সাক্ষীরা জানান, দুপুরে হাসপাতালের ৪ নম্বর ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরোজ সরকার। ওই ফটক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও একটি অ্যাম্বুলেন্স জোর করে ভেতরে ঢোকে। ফিরোজ বাধা দিলে চালকরা তা উপেক্ষা করে জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে রোগী তুলতে শুরু করে।
এ সময় আনসার সদস্য ফিরোজ প্রতিবাদ করলে এক চালক ঘুষি মেরে তার নাক ফাটিয়ে দেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা লাঠি-হাসুয়া নিয়ে বাইরে অবস্থান নেন, অপরদিকে আনসার সদস্যরাও মোতায়েন হন ফটকের সামনে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিনজনকে আটক করে।
রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মদ বলেন, “বহিরাগত এই অ্যাম্বুলেন্স চালকরা অত্যন্ত বেপরোয়া। তাদের মানবিক বোধ নেই, তারা সন্ত্রাসী আচরণ করছে। এ নিয়ে আমি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আজকের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
উল্লেখ্য, রামেক হাসপাতাল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়।
তারা রোগী ও মরদেহ পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।




















