ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট দেবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু নলডাঙ্গায় হালতি বিলে পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নলডাঙ্গায় সরকারি সারবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-হেলপার অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

রাণীশংকৈলের বিদ্যালয়ের ফি বকেয়া থাকায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বসতে পারেনি শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দাবি পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়নি

বিজয় রায়, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

Ranishankail education news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলের বিদ্যালয়ের ফি বকেয়া থাকায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বসতে পারেনি শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দাবি পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়নি

অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বকেয়া থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিনা আক্তারের পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা বকেয়া ছিল। গত ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তাকে অপমান করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)ও সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানাতে পারবেন।

সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল বলেন, পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর বকেয়া থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। দিনা আক্তারও তাদের মধ্যে ছিল। তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিনা আক্তার জানায়, বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেনি। বিষয়টি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষিকার কাছে অনুরোধ করলেও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপমানবোধে সে বাড়ি ফিরে যায়। ফলে পরদিনও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে দাবি তার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করছে না। এমনকি পরদিনও কোনো শিক্ষক তার খোঁজ নেননি বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের আরও মানবিক হওয়া উচিত ছিল।

শিক্ষার্থীর বাবা দুলাল হুসেন বলেন, “আমরা বাড়িতে না থাকায় মেয়ে সময়মতো টাকা দিতে পারেনি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়নি। এতে আমার মেধাবী মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সভায় থাকায় অভিযোগপত্রটি তখন হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলের বিদ্যালয়ের ফি বকেয়া থাকায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বসতে পারেনি শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দাবি পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়নি

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাণীশংকৈলের বিদ্যালয়ের ফি বকেয়া থাকায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বসতে পারেনি শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দাবি পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়নি

অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বকেয়া থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিনা আক্তারের পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা বকেয়া ছিল। গত ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তাকে অপমান করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)ও সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানাতে পারবেন।

সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল বলেন, পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর বকেয়া থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। দিনা আক্তারও তাদের মধ্যে ছিল। তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিনা আক্তার জানায়, বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেনি। বিষয়টি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষিকার কাছে অনুরোধ করলেও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপমানবোধে সে বাড়ি ফিরে যায়। ফলে পরদিনও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে দাবি তার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করছে না। এমনকি পরদিনও কোনো শিক্ষক তার খোঁজ নেননি বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের আরও মানবিক হওয়া উচিত ছিল।

শিক্ষার্থীর বাবা দুলাল হুসেন বলেন, “আমরা বাড়িতে না থাকায় মেয়ে সময়মতো টাকা দিতে পারেনি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়নি। এতে আমার মেধাবী মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সভায় থাকায় অভিযোগপত্রটি তখন হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”