ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মান্দায় তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন পঞ্চগড়ে জগদল ডিগ্রী কলেজে এমপি নওশাদ জমিরকে সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে চিলকা নদী থেকে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার রাজশাহীতে ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান রাজশাহীতে অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে মাঠে নেমেছে রাসিকের রাজস্ব বিভাগ রাজশাহীতে ২ লাখ ৩৩ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত ৫ লাখের বেশি মানুষ ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন মধ্যস্থানে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন বাগাতিপাড়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় জামনগর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া এসআইকে গণ-পি/টু-নি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া এসআইকে গণ-পি/টু-নি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করছে জনতা। শনিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর হজোর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগ আছে। পিটুনির শিকার সাবেক এই এসআই হলেন, মাহবুব হাসান (৩৫)। তিনি রাজশাহী নগর ডিবিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় বরখাস্ত হন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান।

হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৩ সালে এসআই নিয়োগে তার চাকরি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি রাজশাহী নগরীর মতিহার থানায় ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) যোগদান করেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগ করতেন হাসান। পরবর্তীতে দলীয় প্রভাবে পুলিশে চাকরি নেন এবং ডিবিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়ন চালান। নিজেকে ‘অপরাজেয়’ ভাবা হাসান রাজশাহীতে বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জখম ও পঙ্গু করেছেন।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামকে আটক করে অস্ত্রসহ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষকেও চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের ফাঁদে ফেলেছিলেন তিনি। এসব অপকর্মের মাধ্যমে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। রাজশাহীর রেলগেট এলাকার রাজিব আলী রাতুল ছিলেন এমন এক ভুক্তভোগী। তাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ আছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর রাতুলের বাবা মাসুদ রানা এই হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে মাসুদ রানার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে রাজীব আলীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে শিমলা বাগানে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাসুদ রানাকে ফোন করে জানানো হয়- তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে রাজীবকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। টাকা নিয়ে শিমলা বাগানে ছুটে গেলে মাসুদ রানাকে ওই টাকাই হাসানের হাতে তুলে দিতে হয়।

এ সময় হাসান আশ্বাস দেন, রাজীবকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু পরদিন তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করেন রাজীব। জামিন পাওয়ার পর এসআই হাসানের সঙ্গে দেখা হলে রাজীব টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং হুমকি দেন- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন, টাকা চাইলে এবার মেরেই ফেলা হবে।

নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘আটকের পর হাসানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমাদের থানায় তার নামে মামলা নেই। তাই তাকে হাসপাতালেই বোয়ালিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছে।’

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার থানায় হাসানের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির একটাই মামলা আছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে অন্য কোন মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেটিতেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া এসআইকে গণ-পি/টু-নি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া এসআইকে গণ-পি/টু-নি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করছে জনতা। শনিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর হজোর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগ আছে। পিটুনির শিকার সাবেক এই এসআই হলেন, মাহবুব হাসান (৩৫)। তিনি রাজশাহী নগর ডিবিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় বরখাস্ত হন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান।

হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৩ সালে এসআই নিয়োগে তার চাকরি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি রাজশাহী নগরীর মতিহার থানায় ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) যোগদান করেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগ করতেন হাসান। পরবর্তীতে দলীয় প্রভাবে পুলিশে চাকরি নেন এবং ডিবিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়ন চালান। নিজেকে ‘অপরাজেয়’ ভাবা হাসান রাজশাহীতে বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জখম ও পঙ্গু করেছেন।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামকে আটক করে অস্ত্রসহ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষকেও চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের ফাঁদে ফেলেছিলেন তিনি। এসব অপকর্মের মাধ্যমে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। রাজশাহীর রেলগেট এলাকার রাজিব আলী রাতুল ছিলেন এমন এক ভুক্তভোগী। তাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ আছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর রাতুলের বাবা মাসুদ রানা এই হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে মাসুদ রানার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে রাজীব আলীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে শিমলা বাগানে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাসুদ রানাকে ফোন করে জানানো হয়- তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে রাজীবকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। টাকা নিয়ে শিমলা বাগানে ছুটে গেলে মাসুদ রানাকে ওই টাকাই হাসানের হাতে তুলে দিতে হয়।

এ সময় হাসান আশ্বাস দেন, রাজীবকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু পরদিন তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করেন রাজীব। জামিন পাওয়ার পর এসআই হাসানের সঙ্গে দেখা হলে রাজীব টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং হুমকি দেন- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন, টাকা চাইলে এবার মেরেই ফেলা হবে।

নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘আটকের পর হাসানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমাদের থানায় তার নামে মামলা নেই। তাই তাকে হাসপাতালেই বোয়ালিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছে।’

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার থানায় হাসানের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির একটাই মামলা আছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে অন্য কোন মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেটিতেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।