রাজশাহীতে ডা. কাজেম আলী হত্যায় ৬ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তারের তালিকায় ৩ – মূল অভিযুক্ত মোস্তফা ও আরও দুজন ধরতে গড়িমসি
- আপডেট সময় : ১১:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ৩৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে ডা. কাজেম আলী হত্যায় ৬ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তারের তালিকায় ৩ – মূল অভিযুক্ত মোস্তফা ও আরও দুজন ধরতে গড়িমসি
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও মূল খুনিসহ বেশিরভাগ আসামি গ্রেফতার হয়নি – চিকিৎসক মহল ও পরিবারের বাড়ছে আতঙ্ক; স্বীকারোক্তি ও মোবাইল সিডি-আর পরীক্ষায় নিহত ডা. কাজেমের হত্যায় নতুন প্রগতি
প্রখ্যাত চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজেম আলী হত্যা মামলায় প্রাথমিকভাবে ছয় জন সন্দেহভাজন শনাক্ত করা হয়েছে; তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে যাকে উল্লেখ করা হচ্ছে—মোস্তফা (মহিদুল ইসলাম/মোস্তফা) ও আরও দুইজনকে গ্রেফতারে পুলিশ ভালো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেওয়ায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন ও ডা. কাজেম স্মৃতি পরিষদের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন, এনডিএফ কেন্দ্রীয় যুগ্মসচিব প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এনডিএফ রাজশাহীর সভাপতি ডা. রেজাউল ইসলাম, সহ-সভাপতি ডা. এম. মুর্শেদ জামান মিঞা, শহীদ ডা. কাজেম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ডা. মশিউর রহমান, ডা. কাজেমের ব্যাচমেট ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও অন্যান্য চিকিৎসকরা।
ডা. মশিউর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর ডা. কাজেম আলী নৃশংসভাবে খুন হন; পরদিন তার স্ত্রী রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। দুই বছর পার হওয়া সত্ত্বেও মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না দেখায় তিনি ও চিকিৎসক সমাজ উদ্বিগ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনের সি-ডি/আর (CDR) পরীক্ষার ভিত্তিতে ছয় জন সন্দেহভাজন শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাড়ির ড্রাইভারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; কিন্তু স্পটের মূল খুনি মোস্তফাসহ দুইজনকে গ্রেফতারে গড়িমসি চলছে।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, “মোস্তফা (মহিদুল ইসলাম) পেশায় বাবুর্চি; তিনি নগরীর শিল্পিপাড়ায় থাকেন। আমরা মনে করি তিনি মূল অভিযুক্ত। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে; দু’জন স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ১৬৪ ধারায় শাহাজাদা স্বীকারোক্তি দিয়েছে-সে বলেছে ‘আমি ছিলাম এবং মোস্তফাও ছিল’।” তিনি এছাড়া উল্লেখ করেন, “শাহাজাদার কথায় নেপথ্যে কিছু আছে; তারা ব্যবহৃত হয়েছে।”
এনডিএফ রাজশাহীর সহ-সভাপতি ডা. এম. মুর্শেদ জামান মিঞা বলেন, ঘটনার সময়টি নির্বাচন-আগের; তিনি এটিকে ষড়যন্ত্রমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেও উল্লেখ করেন এবং চিকিৎসক নেতারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ড্যাবের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “রাজনীতিকতা বাদ দিয়ে দেখা দরকার—একজন নাগরিককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে; বিচার হওয়া উচিত। মামলা দ্রুত চার্জশিট ও বিচারের পথে এগিয়ে আনুক পুলিশ।”
সম্মেলনে অংশ নেওয়া চিকিৎসকরা দ্রুততর গ্রেপ্তার, দায়িত্বশীল চার্জশিট ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মদলকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


















