ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট দেবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু নলডাঙ্গায় হালতি বিলে পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নলডাঙ্গায় সরকারি সারবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-হেলপার অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

জুম চাষ ও নতুন ফসল ঘিরে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবে নাচ-গান, ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি উৎসবের আমেজ

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ (নবান্ন) উৎসব। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে নগরীর বাগানপাড়ায় অবস্থিত উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গীর্জা প্রাঙ্গণে দেবতাদের পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেমন ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ পালনের পর শুরু হয় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গারো শিল্পীরা নিজেদের মাতৃভাষায় গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গারোদের ঐতিহ্যবাহী ‘জুম নাচ’, যা পুরো প্রাঙ্গণকে আনন্দে মুখর করে তোলে।

উৎসবের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক দেশ। ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মাধ্যমে জাতিগত ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে সক্রিয় হতে হবে।”

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডা, রাজশাহী নানকিং গ্রুপের প্রোপাইটর এহসানুল হুদা, রাজশাহী পার্লার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস রুকসানা হুদা এবং গীর্জার পালকীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস সরেন। বক্তারা গারো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গারো ভাষায় ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব মূলত জুম চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর নকমা (গ্রামপ্রধান) তারিখ নির্ধারণ করে উৎসব উদযাপন করেন। রাজশাহীর গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছর এই উৎসব পালন করে আসছেন।

উৎসব উপলক্ষে শত শত আদিবাসী একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। গীর্জার মাঠজুড়ে বসে ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান। সেখানে জুমের আলু, কুমড়া, শামুক, কাঁকড়া ইত্যাদি খাবার দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

রাজশাহী ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন কমিটির নকমা লোটাস চিসিম বলেন, “ওয়ানগালা ও লবান কেবল উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন। আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্য জানুক ও ধারণ করুক।”

উৎসবটি আদিবাসী সংস্কৃতির ঐক্য, ঐতিহ্য এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব উদযাপন

জুম চাষ ও নতুন ফসল ঘিরে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবে নাচ-গান, ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি উৎসবের আমেজ

রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ (নবান্ন) উৎসব। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে নগরীর বাগানপাড়ায় অবস্থিত উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গীর্জা প্রাঙ্গণে দেবতাদের পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেমন ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ পালনের পর শুরু হয় বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গারো শিল্পীরা নিজেদের মাতৃভাষায় গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গারোদের ঐতিহ্যবাহী ‘জুম নাচ’, যা পুরো প্রাঙ্গণকে আনন্দে মুখর করে তোলে।

উৎসবের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক দেশ। ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মাধ্যমে জাতিগত ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে সক্রিয় হতে হবে।”

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন কারিতাস বাংলাদেশের রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডা, রাজশাহী নানকিং গ্রুপের প্রোপাইটর এহসানুল হুদা, রাজশাহী পার্লার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস রুকসানা হুদা এবং গীর্জার পালকীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস সরেন। বক্তারা গারো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গারো ভাষায় ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব মূলত জুম চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ফসল ঘরে তোলার পর নকমা (গ্রামপ্রধান) তারিখ নির্ধারণ করে উৎসব উদযাপন করেন। রাজশাহীর গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছর এই উৎসব পালন করে আসছেন।

উৎসব উপলক্ষে শত শত আদিবাসী একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। গীর্জার মাঠজুড়ে বসে ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান। সেখানে জুমের আলু, কুমড়া, শামুক, কাঁকড়া ইত্যাদি খাবার দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

রাজশাহী ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন কমিটির নকমা লোটাস চিসিম বলেন, “ওয়ানগালা ও লবান কেবল উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন। আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের ঐতিহ্য জানুক ও ধারণ করুক।”

উৎসবটি আদিবাসী সংস্কৃতির ঐক্য, ঐতিহ্য এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।