মোহনপুরে হ/ত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে, গ্রে’প্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০২:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে

মোহনপুরে হ/ত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে, গ্রে’প্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
১১ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার নয়, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়া এলাকায় জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা পৌনে ১১টার দিকে সাঁকোয়া এলাকায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ইমরান আলী অভিযোগ করেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং মামলাটি তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে। ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, তার বাবা আলাউদ্দিন (৬৫) সাঁকোয়া গ্রামের উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং একজন ধর্মপ্রাণ, নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোহনপুর উপজেলার একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
ইমরান আলী জানান, গত ৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইমাম নিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আলাউদ্দিনকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা তার বুকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল। অন্যান্য আসামিরা হলেন—ওমর ফারুক, আব্দুল করিম, ইসমাইল হোসেন, মাহাবুর রহমান, কামরুজ্জামান হেনা ও ওয়াহেদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রধান আসামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করছেন। এরপরও পুলিশ বলছে, আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার ১১ দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এবং মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করার জন্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মজিয়া বেওয়া, তাসলিমা বেগম, মাইনুল ইসলাম ও মিনা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপ-পরিদর্শক মোদাস্বের হোসেন খান বলেন, আসামিদের জামিন সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, তবে পলাতক থাকায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।




















