ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোমস্তাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃ/ত্যু জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬: বাগাতিপাড়ায় তিন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গালিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা আরএমপির উদ্যোগে উদ্ধার ১০১ হারানো মোবাইল ফোন, মালিকদের হাতে হস্তান্তর লালপুরে বজ্রপাতে ইটভাটা শ্রমিক নিহত, আহত ২ নারী দা’ফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক্টরে ধা/ক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃ/ত্যু, স্ত্রী আহত দুই বছরের মধ্যে চালু হতে পারে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর- মির্জা ফখরুল জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় মান্দায় গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক সিংড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় বাগাতিপাড়ার অসুস্থ আবুল হোসেন

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় বাগাতিপাড়ার অসুস্থ আবুল হোসেন

দীর্ঘ চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত পরিবার, বিছানাগত পক্ষাঘাতগ্রস্ত আবুল হোসেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৫১) একসময় ছিলেন একজন পরিশ্রমী মানুষ। কায়িক শ্রম ও ভ্যানগাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্বচ্ছল সংসার। নিজ উপার্জনে তৈরি করেছিলেন বসতভিটাও। কিন্তু হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা কেড়ে নেয় তার সবকিছু।

গত সাত মাস ধরে সম্পূর্ণভাবে বিছানাগত আবুল হোসেন বর্তমানে দৃষ্টিশক্তিহীন ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত। হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারেন না। মাঝে মধ্যে শুধু “হুম” বা “আ” শব্দ করে সাড়া দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। গরু-ছাগলসহ ঘরের সব সম্পদ বিক্রি করে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থ নেই, এমনকি ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাথা ঘোরা, বমি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখের ভেতরে ক্ষত নিয়ে তার অসুস্থতা শুরু হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি চোখ অপারেশন করে তুলে ফেলতে হয়। কিন্তু অপারেশনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তার পুরো শরীর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়।

আবুল হোসেন পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের মৃত সুকচান আলীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪৩) ও দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটি আজ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আবুলের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, “স্বামীর চিকিৎসার জন্য যা কিছু ছিল সব বিক্রি করেছি। এখন চিকিৎসা তো দূরের কথা, সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মানবিক মানুষের সহায়তা পেলে হয়তো আবার চিকিৎসা শুরু করা যাবে।”

তার বোন জমেলা বেগম (৬০) বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আবুল পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছে। আজ সে একেবারে অসহায়। মানুষের একটু সহানুভূতিই পারে এই পরিবারকে বাঁচাতে।”

স্থানীয় শিক্ষক মাহাবুর রহমান বলেন, “একজন কর্মঠ মানুষকে এভাবে অসহায় হয়ে যেতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে সহযোগিতার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এই অবস্থায় আবুল হোসেনের পরিবার সমাজের মানবিক ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।

সাহায্য পাঠাতে পারেন নিচের নাম্বারে-
আবুল হোসেনের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরঃ ০১৭৬৩ ৩৫ ৭৩ ২১

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় বাগাতিপাড়ার অসুস্থ আবুল হোসেন

আপডেট সময় : ১১:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় বাগাতিপাড়ার অসুস্থ আবুল হোসেন

দীর্ঘ চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত পরিবার, বিছানাগত পক্ষাঘাতগ্রস্ত আবুল হোসেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৫১) একসময় ছিলেন একজন পরিশ্রমী মানুষ। কায়িক শ্রম ও ভ্যানগাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্বচ্ছল সংসার। নিজ উপার্জনে তৈরি করেছিলেন বসতভিটাও। কিন্তু হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা কেড়ে নেয় তার সবকিছু।

গত সাত মাস ধরে সম্পূর্ণভাবে বিছানাগত আবুল হোসেন বর্তমানে দৃষ্টিশক্তিহীন ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত। হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারেন না। মাঝে মধ্যে শুধু “হুম” বা “আ” শব্দ করে সাড়া দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। গরু-ছাগলসহ ঘরের সব সম্পদ বিক্রি করে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থ নেই, এমনকি ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাথা ঘোরা, বমি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখের ভেতরে ক্ষত নিয়ে তার অসুস্থতা শুরু হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি চোখ অপারেশন করে তুলে ফেলতে হয়। কিন্তু অপারেশনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তার পুরো শরীর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়।

আবুল হোসেন পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের মৃত সুকচান আলীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪৩) ও দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটি আজ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আবুলের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, “স্বামীর চিকিৎসার জন্য যা কিছু ছিল সব বিক্রি করেছি। এখন চিকিৎসা তো দূরের কথা, সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মানবিক মানুষের সহায়তা পেলে হয়তো আবার চিকিৎসা শুরু করা যাবে।”

তার বোন জমেলা বেগম (৬০) বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আবুল পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছে। আজ সে একেবারে অসহায়। মানুষের একটু সহানুভূতিই পারে এই পরিবারকে বাঁচাতে।”

স্থানীয় শিক্ষক মাহাবুর রহমান বলেন, “একজন কর্মঠ মানুষকে এভাবে অসহায় হয়ে যেতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।”

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে সহযোগিতার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এই অবস্থায় আবুল হোসেনের পরিবার সমাজের মানবিক ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।

সাহায্য পাঠাতে পারেন নিচের নাম্বারে-
আবুল হোসেনের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরঃ ০১৭৬৩ ৩৫ ৭৩ ২১