বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার ড্রেন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা
পুরোনো ড্রেন সংস্কারেই সমাধান সম্ভব দাবি স্থানীয়দের; পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা
নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার সাড়ে ২৪ লাখ টাকার একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত জনচাহিদা ও পানি নিষ্কাশন সংকটে থাকা এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত উপেক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার সবচেয়ে পুরোনো মালঞ্চি বাজারে বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই নতুন ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের একটি পুরোনো ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেটি অল্প ব্যয়ে সংস্কার ও পরিষ্কার করলেই কার্যকর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তা না করে নতুন ড্রেন নির্মাণে প্রায় ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের আওতায় ড্রেন নির্মাণে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ড্রেন নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তার এক-তৃতীয়াংশ ব্যয়েই পুরোনো ড্রেন সচল করা সম্ভব ছিল। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে যেসব এলাকায় এখনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ড্রেন নির্মাণ করলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতেন।
তাদের আরও অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন মহল্লায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সেসব এলাকা উপেক্ষা করে বাজারে নতুন ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি গ্রহণের আগে বাজার কমিটি, দোকান মালিক বা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিনিময় কিংবা গণশুনানিও করা হয়নি।
স্থানীয় সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী হাসান জাহিদ বাবু সরকার বলেন, নতুন ড্রেন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তার দাবি, নতুন ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ অর্থের এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করলেই পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করে সচল করা যেত এবং বাকি অর্থ অন্যান্য জরুরি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতো।
ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত মিঠু বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের নিচে থাকা পুরোনো ড্রেনটি সংস্কার করলেই পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দূর করা সম্ভব। নতুন ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে অতিরিক্ত দুটি কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে, যা সরকারি ব্যয় আরও বাড়াবে।
সোনাপাতি মহল্লার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন না থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অথচ সেই সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে পুরোনো ড্রেন সংস্কার না করে নতুন প্রকল্প নেওয়া অযৌক্তিক।
মালঞ্চি বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি বলেন, বাজারের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে বাজার কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করা দুঃখজনক। সংশ্লিষ্টদের মতামত নিলে প্রকৃত প্রয়োজনগুলো আরও ভালোভাবে বিবেচনায় আসত।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ.এস.এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পৌরসভার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল। বাজারের সার্বিক জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন ড্রেন নির্মাণ হলে বাজারের অধিকাংশ এলাকার পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

















