ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট দেবীগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু নলডাঙ্গায় হালতি বিলে পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নলডাঙ্গায় সরকারি সারবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক-হেলপার অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনেই নিরাপত্তাহীনতায় আনসার সদস্য, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ২২৮ বার পড়া হয়েছে

pic collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

৮২ লাখ টাকার প্রকল্প অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে, ধুলা-কাদা ও ভাঙা রাস্তায় নাকাল স্থানীয় বাসিন্দারা

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভা এলাকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা এখনো অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তা সংস্কারের নামে খোয়া ও বালু ফেলে কাজ শুরু করা হলেও এরপর আর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধুলাবালি, কাদা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই দুর্বিষহ যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতাই এর জন্য দায়ী। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে পৌরসভার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়কগুলোর পুরোনো পিচ তুলে খোয়া বিছানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ ও নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি। বরং অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পগুলো আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া সড়কের ৫৭৫ মিটার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছিমপুর সড়কের ১০৫ মিটার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণহাটি সড়কের ৮৩ মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপাতিল সড়কের ৬২ মিটারসহ মোট ৮২৫ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় আগাছা ও ঘাস জন্মে রাস্তার অস্তিত্বই প্রায় মুছে গেছে। কোথাও কোথাও ইটের খোয়া উঠে এসে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।

সোনাপাতিল মহল্লার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটির সংস্কার কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। বড় বড় খোয়া বের হয়ে থাকায় চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চলাফেরা আরও কঠিন হয়ে যায়। স্কুলগামী শিশুদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।”

মাছিমপুর মহল্লার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল গনি বলেন, “শুধু খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেলেও কার্পেটিং করা হয়নি। মাঝে মাঝে শুনি কাজ শুরু হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।”

বাগাতিপাড়া পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ.এস.এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদার গুরুত্ব দেননি। তবে সম্প্রতি কাজ আবার শুরু হয়েছে।”

তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা এই সড়ক সংস্কার প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

৮২ লাখ টাকার প্রকল্প অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে, ধুলা-কাদা ও ভাঙা রাস্তায় নাকাল স্থানীয় বাসিন্দারা

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভা এলাকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা এখনো অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তা সংস্কারের নামে খোয়া ও বালু ফেলে কাজ শুরু করা হলেও এরপর আর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধুলাবালি, কাদা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই দুর্বিষহ যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতাই এর জন্য দায়ী। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে পৌরসভার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়কগুলোর পুরোনো পিচ তুলে খোয়া বিছানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ ও নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি। বরং অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পগুলো আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া সড়কের ৫৭৫ মিটার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছিমপুর সড়কের ১০৫ মিটার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণহাটি সড়কের ৮৩ মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপাতিল সড়কের ৬২ মিটারসহ মোট ৮২৫ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় আগাছা ও ঘাস জন্মে রাস্তার অস্তিত্বই প্রায় মুছে গেছে। কোথাও কোথাও ইটের খোয়া উঠে এসে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।

সোনাপাতিল মহল্লার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটির সংস্কার কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। বড় বড় খোয়া বের হয়ে থাকায় চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চলাফেরা আরও কঠিন হয়ে যায়। স্কুলগামী শিশুদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।”

মাছিমপুর মহল্লার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল গনি বলেন, “শুধু খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেলেও কার্পেটিং করা হয়নি। মাঝে মাঝে শুনি কাজ শুরু হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।”

বাগাতিপাড়া পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ.এস.এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদার গুরুত্ব দেননি। তবে সম্প্রতি কাজ আবার শুরু হয়েছে।”

তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা এই সড়ক সংস্কার প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।