বাগাতিপাড়ায় খালের মাটি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্ব, মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় খালের মাটি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্ব, মারধরের অভিযোগ
ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি বিক্রি নিয়ে বিরোধ; থানায় অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটি বিক্রি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বৈধ ইজারা পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন এক বিএনপি নেতা। একই সঙ্গে চাঁদা না দেওয়ায় খননকাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটরের চালককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটির ইজারা ১ লাখ ৬২ হাজার ১২৫ টাকায় পান ডুমরাই গ্রামের বাসিন্দা ও দয়ারামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফ সোনার। চুক্তি অনুযায়ী তিনি অতিরিক্ত মাটি বিক্রির অধিকার পান।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজদার রহমান পুনরায় দরপত্র আহ্বানের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় লতিফ সোনার ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সাজদার রহমানকে মাটি বিক্রির স্বত্ব দিতে সম্মত হন। তবে পরে নথিপত্রে বৈধ ইজারাদার হিসেবে লতিফ সোনারের নামই বহাল থাকায় সাজদার রহমান টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত দেওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় বলে জানা গেছে।
ইজারাদার লতিফ সোনার অভিযোগ করেন, বৈধ ইজারাদার হওয়া সত্ত্বেও সাজদার রহমান ও তার সমর্থকরা তাকে মাটি বিক্রি করতে বাধা দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করছেন। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই চাঁদা না দেওয়ায় তার এস্কেভেটরের চালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মারধরের শিকার এস্কেভেটর চালক মনজুরুল আলম বলেন, কয়েকজন এসে তাকে কাজ বন্ধ করতে বলেন। তিনি কাজ চালিয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাজদার রহমান। তিনি বলেন, খাল খননের কাজে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে লতিফ সোনারের কাছ থেকে টাকা দিয়ে ইজারার স্বত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে স্বীকার করেন। চালককে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ অপরাধ করলে তার দায় তিনি নেবেন না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা ছাত্রদলের কর্মী হলেও তাদের কর্মকাণ্ডের দায় তার নয়।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রতনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

















