ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোমস্তাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃ/ত্যু জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬: বাগাতিপাড়ায় তিন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গালিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা আরএমপির উদ্যোগে উদ্ধার ১০১ হারানো মোবাইল ফোন, মালিকদের হাতে হস্তান্তর লালপুরে বজ্রপাতে ইটভাটা শ্রমিক নিহত, আহত ২ নারী দা’ফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক্টরে ধা/ক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃ/ত্যু, স্ত্রী আহত দুই বছরের মধ্যে চালু হতে পারে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর- মির্জা ফখরুল জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় মান্দায় গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক সিংড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ে এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে খানাখন্দ, সেচ্ছাশ্রমে মেরামত করলো শিক্ষার্থীরা

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ে এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে খানাখন্দ, সেচ্ছাশ্রমে মেরামত করলো শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালাদাম বাজার হতে নলেহাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে খানাখন্দে ভরা। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে সড়ক জুড়ে কাঁদার কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী সহ সড়ক ধরে চলাচল করা দুই সহস্রাধিক মানুষজন। সড়কটি স্থানীয়ভাবে সংস্কার করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদেন যেন ভোগান্তির শেষ নেই। খানাখন্দের কারণে সড়ক ধরে চলাচল করা ইজিবাইক সহ অন্যান্য যানবাহন কাদাঁয় আটকে যাচ্ছে। সড়ক ধরে চলাচল করা শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় কাঁদা পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে।

তবে এবার সবার ভোগান্তি লাঘবে নিজেরাই সড়ক মেরামতে অংশ নিল মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী সহ শিক্ষকেরা।
সোমবার দুপুরে দুপুরের বিরতিতে সড়কের কাঁদা সড়িয়ে যানচলাচলের জন্য সাময়িক উপযোগী করা হয়। এসময় খানাখন্দে বালি দিয়ে ভরাট করা হয়। তবে স্থায়ী ভোগান্তি লাঘবে সড়কটি পাঁকাকরণের দাবি তাদের শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়দের।

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুই আক্তার বলেন, সড়কটি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে খুব কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছি। দাদার কারণে সড়ক দিয়ে হাটা যায় না। তারপরে যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত। আমরা অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ভিজে যায়, আমাদের স্কুল ড্রেসও ভিজে যায়। আমরা আহত হই।

একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণী শিক্ষার্থীকে জয়ন্ত চন্দ্র রায় বলেন, মালা দাম বাজার হতে আমাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের যে সড়কটি রয়েছে সেটি খুবই অবস্থা খারাপ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছিলাম। আজকে সকল শিক্ষার্থীরা মিলে আমরা সড়কটির ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত করলাম। আমরা চাই সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করা।

বুড়িরবান এলাকার বাসিন্দা প্রসন্ন চন্দ্র রায় বলেন, সড়কটি দিয়ে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের ২০ হাজারের বেশি মানুষজন যাতায়াত করেন। প্রতিদিন স্থানীয় ময়দানদিঘী বাজারে কৃষিপন্য নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভ্যানে করে পন্য নেয়া যায় না। দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হয়। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগ কে দেখবে।

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, মালাদাম বাজার হতে ময়দানদিঘি সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দে ভরা। স্থানীয়ভাবে ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়ে থেকে আমরা সড়কের সংস্কারে একাধিকবার কাজ করেছি। কিন্তু সড়কটিতে কোনভাবেই খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই অতি দ্রুত সড়কটি পাকা করনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি প্রতিবছরই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অন্তত তিনবার সংস্কার করতে হচ্ছে। তবুও খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কাঁদাও বন্ধ করা যাচ্ছে না। মানুষজন অনেক কষ্ট করে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে। সড়কটি পাঁকাকরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামণা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ে এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে খানাখন্দ, সেচ্ছাশ্রমে মেরামত করলো শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০১:১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

পঞ্চগড়ে এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে খানাখন্দ, সেচ্ছাশ্রমে মেরামত করলো শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালাদাম বাজার হতে নলেহাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে খানাখন্দে ভরা। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে সড়ক জুড়ে কাঁদার কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী সহ সড়ক ধরে চলাচল করা দুই সহস্রাধিক মানুষজন। সড়কটি স্থানীয়ভাবে সংস্কার করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদেন যেন ভোগান্তির শেষ নেই। খানাখন্দের কারণে সড়ক ধরে চলাচল করা ইজিবাইক সহ অন্যান্য যানবাহন কাদাঁয় আটকে যাচ্ছে। সড়ক ধরে চলাচল করা শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় কাঁদা পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে।

তবে এবার সবার ভোগান্তি লাঘবে নিজেরাই সড়ক মেরামতে অংশ নিল মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী সহ শিক্ষকেরা।
সোমবার দুপুরে দুপুরের বিরতিতে সড়কের কাঁদা সড়িয়ে যানচলাচলের জন্য সাময়িক উপযোগী করা হয়। এসময় খানাখন্দে বালি দিয়ে ভরাট করা হয়। তবে স্থায়ী ভোগান্তি লাঘবে সড়কটি পাঁকাকরণের দাবি তাদের শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়দের।

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুই আক্তার বলেন, সড়কটি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে খুব কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছি। দাদার কারণে সড়ক দিয়ে হাটা যায় না। তারপরে যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত। আমরা অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ভিজে যায়, আমাদের স্কুল ড্রেসও ভিজে যায়। আমরা আহত হই।

একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণী শিক্ষার্থীকে জয়ন্ত চন্দ্র রায় বলেন, মালা দাম বাজার হতে আমাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের যে সড়কটি রয়েছে সেটি খুবই অবস্থা খারাপ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছিলাম। আজকে সকল শিক্ষার্থীরা মিলে আমরা সড়কটির ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত করলাম। আমরা চাই সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করা।

বুড়িরবান এলাকার বাসিন্দা প্রসন্ন চন্দ্র রায় বলেন, সড়কটি দিয়ে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের ২০ হাজারের বেশি মানুষজন যাতায়াত করেন। প্রতিদিন স্থানীয় ময়দানদিঘী বাজারে কৃষিপন্য নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভ্যানে করে পন্য নেয়া যায় না। দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হয়। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগ কে দেখবে।

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, মালাদাম বাজার হতে ময়দানদিঘি সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দে ভরা। স্থানীয়ভাবে ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়ে থেকে আমরা সড়কের সংস্কারে একাধিকবার কাজ করেছি। কিন্তু সড়কটিতে কোনভাবেই খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই অতি দ্রুত সড়কটি পাকা করনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি প্রতিবছরই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অন্তত তিনবার সংস্কার করতে হচ্ছে। তবুও খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কাঁদাও বন্ধ করা যাচ্ছে না। মানুষজন অনেক কষ্ট করে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে। সড়কটি পাঁকাকরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামণা করছি।