ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোমস্তাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃ/ত্যু জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬: বাগাতিপাড়ায় তিন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গালিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা আরএমপির উদ্যোগে উদ্ধার ১০১ হারানো মোবাইল ফোন, মালিকদের হাতে হস্তান্তর লালপুরে বজ্রপাতে ইটভাটা শ্রমিক নিহত, আহত ২ নারী দা’ফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক্টরে ধা/ক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃ/ত্যু, স্ত্রী আহত দুই বছরের মধ্যে চালু হতে পারে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর- মির্জা ফখরুল জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় মান্দায় গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক সিংড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

ব্রি উদ্ভাবিত এ জাত বাতাস-বৃষ্টি সহনশীল, ফলন স্বর্ণার চেয়ে বেশি—বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-১০৩ জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘনশ্যামপুর মাঠে নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন করে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হান্নান আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাপস কুমার হোড়, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুমনা হক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, ফার্ম ম্যানেজার মোখলেসুর রহমান, এসএএও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও কৃষক মতিউর রহমান।

মাঠ দিবসে বক্তারা জানান, আমন মৌসুমে স্বর্ণা ধান রাজশাহীর কৃষকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। তবে এ বছর ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে স্বর্ণা ধানের অধিকাংশ জমিতে ধান শুয়ে পড়ে। কিন্তু ঘনশ্যামপুরের কৃষক মতিউর রহমান তার ৬ বিঘা জমিতে ব্রিধান-১০৩ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বিঘায় তিনি ২৪ মণ করে ফলন পেয়েছেন।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিধান-১০৩ জাতের গাছ স্বর্ণার তুলনায় লম্বা ও কাণ্ড শক্ত। তাই ঝড়-বাতাসেও এই জাত সহজে ল Lodging হয় না। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম, ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে। এই ধান স্বর্ণার চেয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে পাকে—যা এলাকায় পরবর্তী আলু চাষের জন্যও সুবিধাজনক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণা যেখানে গড়ে ১৯ মণ পর্যন্ত ফলন দেয়, সেখানে ব্রিধান-১০৩ জাতে ২২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এই জাতের খড়ও শক্ত হওয়ায় বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি।

প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “ব্রিধান-১০৩ এর ফলন, রোগ-সহনশীলতা ও বাতাসে না শোয়ার সক্ষমতা কৃষকদের বাড়তি লাভ দেবে। আগামী মৌসুমে এই জাত পুরো মাঠ জুড়ে চাষ করার আহ্বান জানাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

ব্রি উদ্ভাবিত এ জাত বাতাস-বৃষ্টি সহনশীল, ফলন স্বর্ণার চেয়ে বেশি—বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-১০৩ জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘনশ্যামপুর মাঠে নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন করে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হান্নান আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাপস কুমার হোড়, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুমনা হক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, ফার্ম ম্যানেজার মোখলেসুর রহমান, এসএএও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও কৃষক মতিউর রহমান।

মাঠ দিবসে বক্তারা জানান, আমন মৌসুমে স্বর্ণা ধান রাজশাহীর কৃষকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। তবে এ বছর ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে স্বর্ণা ধানের অধিকাংশ জমিতে ধান শুয়ে পড়ে। কিন্তু ঘনশ্যামপুরের কৃষক মতিউর রহমান তার ৬ বিঘা জমিতে ব্রিধান-১০৩ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বিঘায় তিনি ২৪ মণ করে ফলন পেয়েছেন।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিধান-১০৩ জাতের গাছ স্বর্ণার তুলনায় লম্বা ও কাণ্ড শক্ত। তাই ঝড়-বাতাসেও এই জাত সহজে ল Lodging হয় না। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম, ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে। এই ধান স্বর্ণার চেয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে পাকে—যা এলাকায় পরবর্তী আলু চাষের জন্যও সুবিধাজনক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণা যেখানে গড়ে ১৯ মণ পর্যন্ত ফলন দেয়, সেখানে ব্রিধান-১০৩ জাতে ২২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এই জাতের খড়ও শক্ত হওয়ায় বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি।

প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “ব্রিধান-১০৩ এর ফলন, রোগ-সহনশীলতা ও বাতাসে না শোয়ার সক্ষমতা কৃষকদের বাড়তি লাভ দেবে। আগামী মৌসুমে এই জাত পুরো মাঠ জুড়ে চাষ করার আহ্বান জানাই।”